“খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা: ইতিহাসের এক অধ্যায় শেষ”
৮০ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণ
জাতির শোকের দিন: খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, শেরেবাংলা নগরে দাফন
ইবনে ফরহাদ তুরাগ: বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য তিনি ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এবং বিরোধী দলে নেতৃত্ব—প্রতিটি পর্যায়ে তিনি রেখেছেন সুস্পষ্ট ও দৃঢ় ভূমিকা। আজ তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে শেরেবাংলা নগরে সমাহিত করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তার মৃত্যুতে হাসপাতালজুড়ে শোকের আবহ নেমে আসে; অনেক চিকিৎসক ও নার্সকে আবেগ সংবরণ করতে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে আগামী তিন দিন দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
এছাড়াও দেশের প্রতিটি মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
বিআলো/নিউজ



