খাসিয়া নারীর স্বপ্ন থেকে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস
পাহাড় থেকে রাজধানী—ফেন্সি ফ্রান্সিস্কার হাতে গড়া সফল ব্র্যান্ড
হৃদয় খান: পাহাড়ি অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দেশের স্কিন কেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক চ্যালেঞ্জ এবং সীমিত সুযোগ সত্ত্বেও তিনি এক নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পথচলা শুরু করেন। ছোট অনলাইন উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা করা ‘ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস’ আজ বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে, যা নারী উদ্যোক্তা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক।
উদ্যোগের যাত্রা
ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টসের যাত্রা শুরু হয় অনলাইনে ছোট উদ্যোগ হিসেবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পণ্য ও গ্রাহক সত্ত্বেও ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের কঠোর পরিশ্রম ও গ্রাহকপ্রিয় মানসিকতার কারণে ব্যবসা ক্রমে প্রসার লাভ করে। ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে। গত পাঁচ বছর ধরে তারা অফলাইন কার্যক্রমও জোরদার করেছে, এবং বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ছয়টি আউটলেটের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
পণ্যের মান ও নিরাপত্তা
ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস সবসময় ত্বকের নিরাপত্তা ও পণ্যের মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, জাপান ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ ও বাজারজাত করে।
সফল উদ্যোক্তার গল্প
সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাসিয়া সম্প্রদায়ের এই নারী উদ্যোক্তা নানা সামাজিক ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আজ নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার স্পষ্ট ভাষা, আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপন এবং আন্তরিক আচরণের কারণে গ্রাহকদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে দৃঢ় বিশ্বাসের সম্পর্ক।
আঞ্চলিক সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আদিবাসী ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে শোরুম চালু করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও তাদের আউটলেট রয়েছে। ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ নিজ জেলা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় নতুন শোরুম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যাশন ও নারী ক্ষমতায়ন
স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি তিনি নারীদের জন্য প্রিমিয়াম ক্লোথিং ব্র্যান্ড ‘ফেন্সি আইকনিক’ চালু করেছেন। নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে তৈরি পোশাক অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এছাড়া ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টসের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা বেকারত্ব কমাতে ভূমিকা রাখছে।
এক অনুপ্রেরণার গল্প
একজন আদিবাসী নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের শুধু নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি, বরং তার সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। তার লক্ষ্য, আগামী দিনে দেশের প্রতিটি জেলায় ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস পৌঁছে দেওয়া। এই দীর্ঘ পথচলা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণার গল্প।
বিআলো/তুরাগ



