গরিব ও দুস্থ শিশুদের মাঝে ইবির ফুলকুঁড়ি তারারমেলা শাখার শীত উপহার বিতরণ
ইবি প্রতিনিধি : শিশু-কিশোরদের সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) তারারমেলা শাখার উদ্যোগে গরিব ও দুস্থ শিশুদের মাঝে শীত উপহার সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল শনিবার নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে অনুষ্ঠিত ‘শীতের উষ্ণ উপহার -২০২৬’ নামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম। শাখার পরিচালক আহনাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি।
এ সময় পরিচালক আহনাফুজ্জামান বলেন, ১৯৭৪ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ফুলকুঁড়ি আসর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে একতা, শিক্ষা, চরিত্র, স্বাস্থ্য এবং শিশু বিকাশ কার্যক্রমের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের একটা কার্যক্রম সেটা হলো অসহায় এবং দুস্থ শিশুদের মাঝে আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করা।
এটা আমরা তাদের কোনো শীতের কোনো বিতরণ না বরং আপনারা দেখতে পাচ্ছেন তাদের জন্য শীতের একটা উপহার আমরা এটা নিয়ে আসছি আপনাদের জন্য একটা উপহার হিসেবে। তিনি আরও বলেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এটাকে ধারণ করে আমাদের ফুলকুঁড়ি আসর আমরা আশপাশে আমাদের ১৮টা স্কুলকে নিয়ে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের কার্যক্রম শুধু যে সীমাবদ্ধতার জায়গা তা না আমরা এবং উদারতার মধ্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তো সেই ধারাবাহিকতায় আপনারা এখানে আজকে শীতের একটা উপহার পাবেন এবং আমাদের ফুলকুঁড়ি আসরের কালচারাল ক্লাস হয় নিয়মিত শুক্রবার।
আপনারা আমাদের এই শুক্রবার আমাদের ফুলকুঁড়ি অফিসে তাদের কালচারাল ক্লাসে নিয়ে আসতে পারেন। এটা একেবারেই বিনামূল্যে। আমাদের যতগুলো কার্যক্রম আছে সবগুলো কার্যক্রম আমরা একেবারেই বিনমূল্যে করে থাকি। সেজন্য আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের ফুলকুঁড়ির সাথে তাদের বাচ্চাদের আপনাদের বাচ্চাদেরকে রাখবেন যাতে তারা কী হতে পারে আগামী বাংলাদেশের একজন উজ্জ্বল জাতি এবং উজ্জ্বল কাণ্ডারি। ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ফুলকুঁড়ি আসর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য, তাদেরকে আদর্শ ছাত্র হিসেবে তৈরি করার জন্য, আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আশপাশের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের কচি-কাঁচা সোনামণিদের নিয়ে তারা কাজ করে। তাদের নিয়মিত যে কার্যক্রমগুলো অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
তারই অংশ হিসেবে আজকের এ শীত উপহার সামগ্রী বিতরণ। উপস্থিত কচি-কাঁচাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের সবার প্রতি এই কামনা রেখে ফুলকুঁড়ি যারা এক্টিভভাবে করছে তাদের যাবতীয় কাজকে আল্লাহ তাআলা যেন সদকায়ে জারিয়া হিসেবে এবং তাদের যে কর্মকাণ্ড সেগুলো যেন আল্লাহ তাআলা এই দেশ, এই সমাজ গড়ার উপলক্ষ হিসেবে কবুল করেন। সব মিলিয়ে যেন আমরা আগামী দিন একটা সুন্দর সমাজ গড়তে পারি, সুন্দর সমাজে বসবাস করতে পারি। আজকে আমরা যে অবস্থায় আছি, আগামী দিনকে যেন আমরা এর চেয়ে একটু ভালো অবস্থায় রেখে যেতে পারি। উল্লেখ্য, এ সময় ক্যাম্পাসের আশপাশের ছয়টি স্কুলের ৫৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এ শীত উপহার বিতরণ করা হয়।
বিআলো/আমিনা



