চাঁদপুরে মাদক নির্মূলে সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন মুহাঃ মিজানুর রহমান
জনপ্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সমন্বয়
মুহাঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৫২১টি অভিযান, ৫৮ জন মাদক পাচারকারী আটক, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেন্সিডিল জব্দ
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর: চাঁদপুরে মাদক নির্মূলে সাহসিকতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC) হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংস্থা, যা দেশে মাদক উৎপাদন, ব্যবহার ও অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অধিদপ্তরের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ, বৈধ মাদকের আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। দেশের যে কোনো জায়গায় মাদক কেনাবেচা সহজলভ্য। চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসে মুহাঃ মিজানুর রহমান সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫২১টি মাদক রোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে ৫৮ জন মাদক পাচারকারী ও বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭,২৫৪ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬৪৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪ কেজি ১২৮ গ্রাম গাঁজা, ২,২৩,৩০০ টাকা নগদ এবং ৮টি মোবাইল ফোন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মুহাঃ মিজানুর রহমান শুধু আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং মাদক বিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জেলা জুড়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড এবং হাট-বাজারে সচেতনতা সভা ও মতবিনিময় আয়োজন করে তিনি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্য বিবাহ বিরোধী বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়াও লিফলেট, জ্যামিতি বক্স ও কলম বিতরণ করে মাদকবিরোধী প্রচার চালিয়েছেন।
মাদকবিরোধী এই সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের কুফল তুলে ধরে ‘মাদকবিরোধী জিহাদ’ ঘোষণা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে মুহাঃ মিজানুর রহমান বলেন, “কেউ অপরাধ করলে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা পৃথিবীতে এটি একটি বড় সমস্যা। মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে। এ ধরনের জীবন বিধ্বংসী ক্ষতিকারক দ্রব্য যুবসমাজের সামাজিক মূল্যবোধও ধ্বংস করছে। এর ফলে ছেলেমেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও রাহাজানি এখন নৈমিত্তিক ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ যারা স্কুল বা কলেজে পড়ছে, তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু কেউ যদি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সে নিজে ধ্বংস হচ্ছে, পাশাপাশি তার পরিবার ও সমাজও বিপর্যস্ত হচ্ছে। সমাজের মানুষকে সচেতন হতে হবে, যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদের সমাজ থেকে প্রতিহত করতে হবে, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষাদান এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অপরিহার্য।”
মুহাঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চাঁদপুরে মাদক নির্মূল ও সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মকাণ্ড এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার পদক্ষেপ জেলা ও দেশের মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
বিআলো/তুরাগ