চাঁদপুর-২ আসনে ইতিহাস গড়লেন ড. জালাল উদ্দিন
বিস্ময়কর ভোটগণনা: বিএনপি প্রার্থী ইতিহাস রচনা করলেন চাঁদপুরে, ১৫৫ কেন্দ্রে একটিতেও হারেননি ড. জালাল উদ্দিন
জাকির হোসেন বাদশা, মতলব উত্তর: চাঁদপুর-২ আসনে ইতিহাস গড়লেন ড. জালাল উদ্দিন। ১৫৫ কেন্দ্রে একটিতেও হার না মানা এই বিজয় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার জয় হিসেবে এ ফলাফল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ধানের শীষ প্রতীকের নজিরবিহীন জয়
চাঁদপুর–২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। নির্বাচনে মোট ১৫৫টি কেন্দ্রে প্রতিটি কেন্দ্রেই তিনি সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোট ব্যবধানের বিশাল পার্থক্য
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ড. জালাল উদ্দিন মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এলডিপি প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৩৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীরা পেয়েছেন কম ভোট:
ইসলামি আন্দোলনের মানসুর আহম্মেদ সাকী (হাতপাখা প্রতীকে) – ১২,০৫০ ভোট
জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া (লাঙ্গল প্রতীকে) – ১,২৮০ ভোট
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. ফয়জুন্নুর (হাতি প্রতীকে) – ৪৭৪ ভোট
বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার (আনারস প্রতীকে) – ২৬৫ ভোট
গণঅধিকার পরিষদের মো. গোলাফ হোসেন (ট্রাক প্রতীকে) – ৩০৬ ভোট
নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক (কেটলি প্রতীকে) – ১৩৮ ভোট
গণভোটের ফলাফল
একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৩ এবং ‘না’ ভোট ৬২ হাজার ৮৭৪। নির্বাচনী আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৬১ জন। ভোটগ্রহণ প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি
নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মোট ২২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল এবং কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছিল।
নেতাকর্মী ও জনগণের প্রশংসা
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন বলেন, “এটি শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন। নেতাকর্মীদের ঐক্য, ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফলেই এই ঐতিহাসিক ফলাফল এসেছে।”
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি সদস্য আলমগীর সরকার বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। এই বিজয় গণমানুষের বিজয় এবং আমরা এটিকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখছি।”
নবনির্বাচিত এমপির প্রতিশ্রুতি
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন বলেন, “এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি জনগণের বিজয়। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণবাসীর ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান দিতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবো। উন্নয়ন, শান্তি ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।”
বিআলো/তুরাগ



