চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে ড্রোন উৎপাদনের যাত্রা শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক: আকাশ প্রতিরক্ষা ও আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিতে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) উৎপাদন ও সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিইটিসি)–এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং ও অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট’ স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর (টেকনোলজি ট্রান্সফার—টিওটি) সংক্রান্ত এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ‘মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর’ প্রকল্পের আওতায় এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে দেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে ড্রোন প্রযুক্তিতে দেশের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প-দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ড্রোন উৎপাদনে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে তুলবে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিভিন্ন ধরনের ‘মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এনডিউরেন্স’ (মেইল) এবং ‘ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ (ভিটল) ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিমান বাহিনী নিজস্ব নকশায় ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতাও অর্জন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিই নয়, বরং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও দেশীয় শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রেও একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিআলো/তুরাগ



