জনগণের প্রত্যাশা ও নেতৃত্বের সন্ধিক্ষণ: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘদিনের দমন–পীড়ন, গণতান্ত্রিক সংকট ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ফলে জনগণ যখন দিশাহীন, ঠিক সেই মুহূর্তে আশার আলো হয়ে সামনে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্ব আজ আর কেবল একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা নয়; এটি হয়ে উঠেছে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি।
দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই তারেক রহমান যে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—
“I have a plan for the people of this country”—
এই বক্তব্য কোনো আবেগী স্লোগান নয়; এটি একটি ভাঙাচোরা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনৈতিক ঘোষণা। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁর রাজনীতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়, বরং জনগণের জীবনমান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে।
তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনাগুলো সরাসরি রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিরসনে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু
শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরে “ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্যাব” নীতি
স্বাস্থ্যখাতে বিপ্লব ঘটাতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, যার ৮০ শতাংশ নারী
খেলাধুলাকে শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা এবং ২০টি নতুন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নদী–খাল খনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
দুর্নীতি দমন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ
এসব পরিকল্পনা কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়; এগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার একটি বিকল্প দর্শন। যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবে জনগণ, আর প্রশাসনের ভিত্তি হবে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা।
তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থানও সুস্পষ্ট ও আপসহীন—
“সবার আগে বাংলাদেশ”।
এই নীতির মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নয়। কোনো পরাশক্তির কাছে মাথা নত করার রাজনীতি বিএনপির আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আজ শহর থেকে গ্রাম, শ্রমিক থেকে কৃষক—সর্বস্তরের মানুষ তারেক রহমানের বিনয়ী আচরণ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দৃঢ় অবস্থানকে নতুন করে মূল্যায়ন করছে। অনেকেই প্রকাশ্যে বলছেন—
“দীর্ঘদিন পর শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া একজন দেশপ্রেমিক নেতাকে আমরা আবার দেখতে পাচ্ছি।”
এটি নিছক আবেগ নয়; এটি দীর্ঘ বঞ্চনা, ভোটাধিকারহীনতা ও দুঃশাসনের পর জনগণের আস্থার বিস্ফোরণ।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা একথাই প্রমাণ করে—বাংলাদেশের মানুষ আর দমনমূলক শাসন, দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতা ও গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্র চায় না। তারা চায় দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব। তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মপরিকল্পনা সেই ঐতিহাসিক চাহিদার সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ।
আগামী দিনে জনগণের রায়ে যদি তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান, তবে তা কেবল ক্ষমতার হাতবদল হবে না— এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
লেখক:
খন্দকার মারুফ হোসেন
এডভোকেট, আপিল বিভাগ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বিআলো/তুরাগ



