জানুয়ারিতে বিজিবির মহা অভিযান: ১৩২ কোটি টাকার চোরাচালান ও মাদক জব্দ, শতাধিক আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্ত রক্ষার কঠোরতায় কোনো ছাড় নেই। দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত জানুয়ারি-২০২৬ মাসে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী সংগ্রামে নতুন এক নজির স্থাপন করেছে। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ৯৪০.১৭৬ গ্রাম এবং রৌপ্য ১৪ কেজি ৩৩৭ গ্রাম। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ২১,২৭১টি শাড়ী, ১১,৮৮৩টি থ্রিপিস ও চাদর/কম্বল, ৩,৬০৫টি তৈরি পোশাক, ২,১৮২ মিটার থান কাপড়।
চোরাচালান সামগ্রীর মধ্যে ৪,০৩,৪২৭টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ২,৫৯৫ পিস ইমিটেশন গহনা, ২৮,৩৩,৬৬৯টি আতশবাজি, ১১,৪৫১ ঘনফুট কাঠ, ৮,৯২৯ কেজি চা পাতা, ২১,৬৫৯ কেজি সুপারি, ২৯,৪৬০ কেজি কয়লা, ১,২৫০ ঘনফুট পাথরও রয়েছে।
মোবাইল ও গ্যাজেটের মধ্যে ছিল ৩৭১টি মোবাইল, ৩,৭৮৯ পিস মোবাইল যন্ত্রাংশ, ৩০,৫৭৫টি চশমা, এবং খাদ্য ও কৃষিপণ্য হিসেবে জব্দ হয়েছে ৪১,৭০৩ কেজি জিরা, ৯,৭৮৬ কেজি চিনি, ৮,৭৩৫ কেজি পিয়াজ, ৭,৪০৯ কেজি রসুন, ৮,২৪১ প্যাকেট বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১৮,৭৯৯ কেজি সার, ২,৭৪৫ প্যাকেট কীটনাশক, এছাড়া ৫৩৮ লিটার ডিজেল ও ৪,১৭,৫১১ পিস চকোলেটও জব্দ করা হয়েছে।
যানবাহনের মধ্যে ছিল ১০টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ১২টি পিকআপ/মহেন্দ্র, ৫টি প্রাইভেটকার/মাইক্রোবাস, ১টি ট্রলি, ২৯টি সিএনজি/ইজিবাইক, ৫২টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি বাইসাইকেল/ভ্যান।
অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৪টি বিদেশী ও দেশীয় পিস্তল, ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৩টি ম্যাগাজিন, ১৮৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১টি মর্টার সেল, ১টি ককটেল এবং ২৮টি অন্যান্য অস্ত্র।
মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রেও বিজিবি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১২,৩২,৮৯৬ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৭৩০ গ্রাম হেরোইন, ১,১৫৬ বোতল ফেনসিডিল, ৮,৯৭০ বোতল বিদেশী মদ, ১৯৮ লিটার বাংলা মদ, ১,২১৬ বোতল ক্যান বিয়ার, ১,৯২৯ কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজা। এছাড়া ২,৬৭,৭০৯ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৯৬,৬৩৮টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ৬,০৭৯ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ১৬,২৫৬টি এ্যানেগ্রা/সেনেগ্রা ট্যাবলেট এবং ১৩,১৪,৭৮৩ পিস অন্যান্য ঔষধ ও ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ও আইনানুগ ব্যবস্থা
সীমান্তে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭২ জন চোরাচালানী, ১১৪ জন বাংলাদেশী নাগরিক, ৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ১৫৯ জন মায়ানমার নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিজিবি’র এই অভিযান দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী যুদ্ধে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে চোরাচালান ও মাদকসহ সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিআলো/তুরাগ



