টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন
নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ এনে জামায়াতকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখে বড় কথা বলা একটি দল নিজেরাই নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘনে লিপ্ত হয়েছে, যা একাধারে নৈতিকতা ও গণতন্ত্রবিরোধী।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে একটি দল নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে, অথচ সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।”
তিনি আরও বলেন, “অত্যন্ত পীড়াদায়ক বিষয় হলো—স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে। তাহলে চিন্তা করুন, দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে? এই আচরণ জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের স্পষ্ট প্রমাণ।”
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, “যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৫ আসনে দাড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে দলটির একজন শীর্ষ আইনজীবী নেতা প্রকাশ্যে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যার ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাহদী আমিন নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি-৪ উদ্ধৃত করে বলেন—“কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তাহার পক্ষ হইতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপঢৌকন প্রদান করিতে পারিবেন না।”
তিনি আরও বলেন, আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-২৭ অনুযায়ী এই লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। The Representation of the People Order, 1972 এর Article 91B (3) অনুযায়ী প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, খুলনা-১ আসনে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। একইভাবে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতামাঝ গ্রামে বিএনপির নেতাদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, “গত ২২ জানুয়ারি থেকে আজ সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত নির্ধারিত নির্বাচনি প্রচারণা সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিভিন্ন জরিপ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে স্পষ্ট—জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য।
মাহদী আমিন বলেন, “বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় নস্যাৎ করতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতাই করা হোক না কেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ তা রুখে দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, ইনশাআল্লাহ।”
বিআলো/তুরাগ



