টাঙ্গাইল–৪: শিক্ষা ও শিল্পায়নের সমন্বয়েই কালিহাতীর বেকারত্ব দূর সম্ভব: লুৎফর রহমান মতিন
রুমি আক্তার পলি, টাঙ্গাইল: বেকারত্ব, শিক্ষা ও শিল্প—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। একটি সমস্যার সমাধান অন্যটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিল্পায়নের সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে কালিহাতীতে বেকারত্ব আর কোনো সমস্যাই থাকবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন টাঙ্গাইল–৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন।
সম্প্রতি কালিহাতী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ইস্যু ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
লুৎফর রহমান মতিন বলেন, শিক্ষা ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব নয়, আর দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া শিল্পায়ন ও টেকসই কর্মসংস্থান গড়ে ওঠে না। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তাই শিক্ষা ও শিল্পকে আলাদা খাতে না দেখে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, বেকারত্ব কমানোর কোনো শর্টকাট বা সাময়িক সমাধান নেই। দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। শুধু সার্টিফিকেটধারী তৈরি করলেই চলবে না; শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সরাসরি যোগসূত্র তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে কাজের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ছে। শিক্ষিত হয়েও তারা বেকার থাকছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। এই অবস্থা পরিবর্তনে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
কালিহাতীর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মতিন বলেন, এখানে পরিকল্পিত শিল্প কারখানা গড়ে তুললে স্থানীয় তরুণদের আর জীবিকার সন্ধানে ঢাকামুখী হতে হবে না। এতে পরিবার ভাঙনের ঝুঁকি কমবে, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে।
নারীশিক্ষার গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীশিক্ষা বাড়লে শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজ উপকৃত হয়। শিক্ষিত নারীরা কর্মক্ষেত্রে যেমন অবদান রাখতে পারে, তেমনি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করে। নারীদের শিক্ষায় বিনিয়োগ মানেই ভবিষ্যতের বেকারত্ব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া।
বেকারত্বকে একটি সামাজিক ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান না থাকলে হতাশা বাড়ে। সেই হতাশা থেকেই অপরাধ, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো সমস্যা জন্ম নেয়। তাই বেকারত্ব দূর করা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নও বটে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লুৎফর রহমান মতিন বলেন, এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জনগণের আস্থাভাজন সরকার। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই শিক্ষা ও শিল্পায়নের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কালিহাতীতে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সবাই উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে নিরাপদ বোধ করবে এবং অংশীদার হবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, এবারের নির্বাচনী রাজনীতিতে কালিহাতী আসনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রতিশ্রুতির ভাষা ও প্রচারণার কৌশল। প্রচলিত রাজনৈতিক স্লোগানের বাইরে গিয়ে লুৎফর রহমান মতিন উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের একটি তুলনামূলক শান্ত বার্তা তুলে ধরছেন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে একসূত্রে গেঁথে তার বক্তব্য তরুণ ভোটারদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে মিলছে বলেও তারা জানান।
উল্লেখ্য, লুৎফর রহমান মতিন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। শিক্ষা ও শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার তার এই দৃষ্টিভঙ্গি টাঙ্গাইল–৪ আসনের নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিআলো/তুরাগ



