ডিআরইউ সদস্য ও পরিবারের জন্য ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: মেডিক্যালে নারীরা এগিয়ে
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নারী সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেছেন, গত বছর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে ছিল। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ছিল মেয়ে এবং ৩৬ শতাংশ ছেলে। এতে প্রমাণ হয়, মেয়েরা মেধায় ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই মেধাবী নারীরাই আমাদের কেউ মা, কেউ বোন, কেউ স্ত্রী—যাদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি।
তিনি বলেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ঘাতক ব্যাধি। ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করেছে, যার অধিকাংশই নারী।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন আরও বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পুরো অবয়ব আধুনিকভাবে পরিবর্তন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের সব মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়ন জরুরি। খুব শিগগিরই দেশের ১০টি পুরাতন মেডিক্যাল কলেজ এবং ১৯টি হোস্টেল আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে প্রায় ৮ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারে।
তিনি জানান, বর্তমানে শিশুদের স্তনদান প্রবণতা কমে যাচ্ছে, যা নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। ধর্মীয় দিক থেকেও শিশুকে স্তনদানে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না। অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক সুমি খান রচিত “স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় স্ক্রিনিং ও সচেতনতা জরুরি” শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমডি এম এ মুবিন খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও প্রিভেন্টিভ অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
এম এ মুবিন খান বলেন, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ডিআরইউকে ধন্যবাদ জানান।
কবি হাসান হাফিজ বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত একজন রোগী পুরো পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে নারীদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং শিশুকে নিয়মিত স্তনদান করাতে হবে। কারণ প্রত্যেক নারীই কোনো না কোনোভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, সাবেক সভাপতি শুকুর আলী শুভ, সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা রোজীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা।
বিআলো/এফএইচএস



