ঢাকা–৫: জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষণা করলেন ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার
১২ দফা কর্মপরিকল্পনায় বৈষম্যহীন, সুশাসিত ও স্বনির্ভর নগরীর স্বপ্ন
মো. আশিকুর রহমান: ঢাকা–৫ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন দৃষ্টিকোণ ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আগমন ঘটেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর। যাত্রাবাড়ীর নুরপুর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এই ইশতেহারে তিনি সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
প্রার্থী তাঁর ইশতেহারে ঢাকা–৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
প্রথম দফায় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দ্বিতীয় দফায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি কর্মহীনতা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, গৃহহীনতা ও চিকিৎসা-বঞ্চনা হ্রাসে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকারও জানান।
এছাড়া জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের যথাযথ সম্মান ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেন। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন।
পরিবেশ ও নগরায়নের ক্ষেত্রে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল খনন, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিয়মিত মশক নিধন এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও তাঁর পরিকল্পনার অংশ।
প্রার্থী নগরবাসীর জন্য বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি, গ্যাস ও মানসম্মত ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং পরিবারভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর গড়ার অঙ্গীকারও তিনি ব্যক্ত করেন।
শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও মনোযোগী প্রার্থী বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ব্যবসার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রার্থী বলেন, “আমার লক্ষ্য ঢাকা–৫ আসনকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও স্বনির্ভর নগরীতে পরিণত করা। প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নের সুফল সবার জন্য নিশ্চিত করা আমার অঙ্গীকার।”
বিআলো/তুরাগ



