ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি, নেতৃত্বে মনির খান
হৃদয় খান: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনী সাংস্কৃতিক পরিচালনা কমিটির এই বৈঠক।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং নির্বাচনী সাংস্কৃতিক পরিচালনা কমিটির প্রধান, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খানসহ কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে মনির খান সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে।
কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। তিনি নিজে এই কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সারাদেশের সাংস্কৃতিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বলেও জানান।
মনির খান বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগীত, নাটক ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে মানুষের মাঝে নির্বাচনকে ঘিরে সচেতনতা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই সারাদেশের সাংস্কৃতিক শিল্পীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোথায় কী ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রয়োজন, কোন অঞ্চলে কীভাবে গান, নাটক কিংবা লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানো যাবে—এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে খণ্ড খণ্ডভাবে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সর্বশেষ এই বৈঠকে নির্বাচনী সাংস্কৃতিক উপকমিটির সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনকালীন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নির্বাচনকে ঘিরে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ধরন ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। নির্বাচন উপলক্ষে থিম সং, দেশাত্মবোধক ও প্রেরণামূলক গান, নাটিকা, ডকুমেন্টারি, পথনাটক, গম্ভীরা, জারি-সারি সহ নানা লোকজ ও আধুনিক সাংস্কৃতিক মাধ্যম ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মনির খান জানান, যেখানে যেখানে সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে তারা সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখবেন। সংগীত ও শিল্পের মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও প্রাণবন্ত ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনের উত্তাপ যখন ধীরে ধীরে বাড়ছে, তখন বিএনপির এই সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতির সমন্বয়ে একটি ইতিবাচক, সৃজনশীল ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলাই এই সাংস্কৃতিক কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান নেতৃবৃন্দ।
বিআলো/তুরাগ



