দাউদকান্দিতে তারেক রহমানের নির্বাচনী মহাসমাবেশে জনসমুদ্র
মো. শাহাদাত হোসেন তালুকদার, দাউদকান্দি: “ভোট দেবো কিসে—ধানের শীষে”—এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লার দাউদকান্দি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশাল মহাসমাবেশে নামে জনতার ঢল। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
দীর্ঘদিন পর দাউদকান্দিতে বিএনপির দলীয় প্রধানের সরাসরি উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি করে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। বিকাল তিনটা থেকেই দাউদকান্দি, মেঘনা ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। শীত উপেক্ষা করে রাত একটা পর্যন্ত হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রিয় নেতার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় মাঠে অবস্থান করেন।
মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা–১ (দাউদকান্দি–মেঘনা) আসনের বিএনপির শীর্ষ নেতা, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও সূচনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আলহাজ্ব কায়কোবাদ এবং মুন্সিগঞ্জ ও গজারিয়া আসনের বিএনপি প্রার্থী, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য চালু করা হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী সংস্কার আনা হবে এবং দেশের প্রতিটি মানুষকে বীমার আওতায় আনা হবে। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি নতুনভাবে শুরু করা হবে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আপনারা কি আমার সঙ্গে থাকবেন?” এ সময় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উপস্থিত জনতা দুই হাত তুলে সমর্থন জানান।
পরে নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,“মা-বোনেরা আমার সঙ্গে থাকবেন তো?” মুহূর্তেই নারীদের হাততালি ও স্লোগানে ঈদগাহ মাঠ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব কায়কোবাদ বলেন,
“আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করতে গিয়ে আমাকে বহু মামলা-মোকদ্দমার শিকার হতে হয়েছে। দেশ ছাড়তে হয়েছে। এমনকি ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি মুক্তি পেয়েছি।” তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজ রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া করবেন।”
সভাপতির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,
“১৯৭৯ সাল থেকে আমি নির্বাচন করে আসছি। এই প্রথম দলের প্রধান নিজে এসে আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিলেন। আজ নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি।”
মহাসমাবেশে কুমিল্লা উত্তর বিএনপি, দাউদকান্দি, মেঘনা, মুরাদনগর, গজারিয়া, উত্তর মতলবসহ বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
বিপুল জনসমাগম ও নেতাকর্মীদের উদ্দীপনায় দাউদকান্দির এই মহাসমাবেশ বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিআলো/তুরাগ



