দাউদকান্দিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মিলাদ মাহফিল ও মতবিনিময় সভা
মো. শাহাদাত হোসেন তালুকদার, দাউদকান্দি: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক আপসহীন অধ্যায়, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দোয়া মিলাদ মাহফিল ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন,
“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু প্রশংসা করলেই তার অবদান শেষ হয় না। তিনি বহুবার দাউদকান্দিতে এসেছেন এবং এই জনপদের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গোমতী-মেঘনা সেতুর মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা তারই দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাশেম, কে এম শামসুল হক (সাবেক সভাপতি, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপি), যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ সাত্তার, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওগাত চৌধুরী পিটার, মোস্তাক সরকার, সালাউদ্দিন ও মাহাবুব রহমান হিরণ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ভিপি সাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ হোসেন চৌধুরী, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান লিমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ—কামাল হোসেন, মো. ফিরোজ মিয়া, জিয়াউল হক জিয়া, মো. রাসেল মিয়া প্রমুখ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সরকার এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কাউছার আহমেদ সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,
“এক-এগারোর সময় ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন—‘আমি দেশ ছাড়বো না। এই দেশই আমার ঠিকানা, মরে হলেও এ দেশেই মরবো।’ তিনি তার কথার মর্যাদা রেখেছেন। গণতন্ত্রের এই আপসহীন মা নিজের দেশেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে কোনো নারীর জানাজা আমি আমার ৮৫ বছরের জীবনে দেখিনি।” বক্তব্য শেষে মরহুমা দেশনেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিআলো/তুরাগ



