দাউদকান্দিতে সাংবাদিক ঐক্যের নীরব প্রতিবাদ
ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে দাঁড়ানো কলমের স্পষ্ট ঘোষণা
মো. শাহাদাত হোসেন তালুকদার: রাষ্ট্রযন্ত্র যখন প্রশ্ন করাকে অপরাধে পরিণত করছে, সত্য বলাকে আখ্যা দিচ্ছে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে—ঠিক সেই সময়ে দাউদকান্দিতে সংঘটিত হলো এক ব্যতিক্রমী, নীরব কিন্তু গভীর অর্থবহ প্রতিবাদ। কোনো মিছিল নেই, নেই শ্লোগানের গর্জন—তবু বার্তাটি ছিল স্পষ্ট, দৃঢ় এবং ক্ষমতার জন্য অস্বস্তিকর।
দাউদকান্দি ডিজিটাল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আনিস খানের বাড়িতে আয়োজিত প্রীতিভোজ ও হাঁসের পার্টি ছিল নিছক সামাজিক সৌজন্যের আয়োজন নয়; বরং এটি ছিল স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে এক সুসংগঠিত নীরব প্রতিরোধ। একই টেবিলে মিলিত হন জাতীয় ও মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা—যাঁরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির পুনরাবৃত্তি নয়, মাঠের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেন কলমে।
আজকের বাংলাদেশে সত্য বলা ক্রমেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে’ পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মামলা-হামলা, অদৃশ্য নজরদারি, ফোনকলের চাপ ও হুমকির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের একে একে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চলছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে দাউদকান্দির এই মিলনমেলা হয়ে উঠেছে সাংবাদিক ঐক্যের প্রকাশ্য ঘোষণা।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে কিছু অস্বস্তিকর কিন্তু অনিবার্য সত্য— সাংবাদিক সমাজকে বিভক্ত করা যাবে না।
কলম ভয় পেলে রাষ্ট্র অন্ধ হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন থেমে গেলে গণতন্ত্র স্তব্ধ হয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে কর্মরত দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল — সম্পাদক ও প্রকাশক, বঙ্গ নিউজ বিডি২৪ডটকম; সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলাদেশের আলো
শাহাদাত হোসেন তালুকদার — কুমিল্লা প্রতিনিধি, বাংলাদেশের আলো
ইমরান মাসুদ — মফস্বল সম্পাদক, বিজনেস বাংলাদেশ
আহনাফ তিহামী — মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক, কালের কণ্ঠ
আনিস রহমান খান — দাউদকান্দি প্রতিনিধি, আজকের পত্রিকা
রাসেল সুমন — ডেইলি বাংলাদেশ আপডেট
ইসমাঈল হোসেন — দাউদকান্দি প্রতিনিধি, দৈনিক জনতা
জসিম মোল্লা — বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আসাদুজ্জামান সাগর — বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
এই সমাবেশ আবারও প্রমাণ করেছে—ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে, সরকার পরিবর্তন হতে পারে; কিন্তু সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা বদলায় না। রাষ্ট্র যদি ভয় দেখিয়ে প্রশ্ন থামাতে চায়, সাংবাদিক সমাজ তখন আরও দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়।
আজ যখন সংবাদকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে আদালত, থানার বারান্দা আর অজানা হুমকির ভেতর দিয়ে দিন পার করছেন—তখন দাউদকান্দির এই আয়োজন ছিল শুধু আপ্যায়ন নয়; এটি ছিল এক স্পষ্ট রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান।
এটি ছিল ক্ষমতার প্রতি এক নীরব কিন্তু উচ্চকণ্ঠ ঘোষণা—
“আমরা দেখছি, আমরা লিখছি, এবং আমরা থামছি না।”
দাউদকান্দির এই মিলনমেলা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—
সংবাদপত্র বন্ধ করা যায়,
টিভির স্ক্রল থামানো যায়,
কণ্ঠ রোধ করা যায়—
কিন্তু সাংবাদিকতার আত্মা কখনো দমন করা যায় না।
কলম এখনো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে—
আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতিবাদ।
বিআলো/তুরাগ



