নতুন রূপে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স: কেপিআই ছাড়পত্র পেলেই মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে যুক্ত হবে মাসে ৭৫ লাখ টাকা
রুবিনা শেখ: ২০০১ সালে চুক্তি, ২০০৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে ২০২৫ সালে বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অবহেলা, প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি প্রতিবন্ধকতায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কার্যকর উদ্যোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে প্রকল্পটি নতুন রূপে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কেপিআই থেকে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি।
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তানে অবস্থিত গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সটি মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমধর্মী রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী ২০০১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিল্ড অ্যান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০০৬ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।
কিন্তু বাস্তবে নির্মাণকাজ একপর্যায়ে থমকে যায়। প্রায় ১০ থেকে ১১ তলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নানা জটিলতায় ভবনটি দীর্ঘ সময় অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে রাষ্ট্র আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার প্রত্যাশিত কল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
দীর্ঘ এই অচলাবস্থা কাটিয়ে বর্তমানে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। প্রকৌশলী, কারিগরি টিম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আধুনিক বাণিজ্যিক চাহিদা অনুযায়ী ভবনটির নকশা ও ব্যবহার কাঠামোতে পরিবর্তন এনে একে আরও কার্যকর ও লাভজনক করে তোলা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে যেখানে ৫৮৩টি দোকান ও স্পেস ছিল, সেখানে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রায় ১১০০টি দোকান ও বাণিজ্যিক স্পেস তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন রূপে কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি চালু হলে মাসিক প্রায় ৭৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় যুক্ত হবে, যা সরাসরি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে জমা হবে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
২০২৫ সালকে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে কেপিআই ছাড়পত্র প্রাপ্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।
এই অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাহবুবের রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়ন করেন, ভবন ব্যবস্থাপনা টিম ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করেন এবং আয় বৃদ্ধিতে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাহবুবের রহমান বলেন
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স শুধু একটি ভবন নয়, এটি মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও সম্মানের প্রতীক। সব জটিলতা পেরিয়ে প্রকল্পটি আজ নতুন রূপে বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে। এই প্রকল্প থেকে অর্জিত প্রতিটি টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
দীর্ঘ দুই দশকের স্থবিরতা পেরিয়ে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স এখন নতুন সম্ভাবনা ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ নতুন রূপ পাবে, শুধুমাত্র কেপিআইয়ের ছাড়পত্র প্রাপ্তির অপেক্ষায়।
দক্ষ ভবন টিমের পরিশ্রম, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও বর্তমান নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে এই প্রকল্প মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণে রাষ্ট্রীয় সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিআলো/তুরাগ



