নাট্যযোদ্ধা সম্মাননায় ভূষিত পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী
ইরানী বিশ্বাস, কোলকাতা: নাট্যসঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “নাট্যযোদ্ধা” সম্মাননা পেলেন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) কোলকাতার রবীন্দ্রসদনের একাডেমি অব ফাইন আর্টস অডিটোরিয়ামে থিয়েটার সংগঠন পূর্বরঙ্গের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
পূর্বরঙ্গ থিয়েটার প্রযোজিত নাটক “সীতায়ন”-এর ১০০তম মঞ্চায়ন উপলক্ষে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মলয় রায় রচিত ও নির্দেশিত নাটকটির আবহ, সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী। নাটকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন প্লাবন বসু ও রোকেয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক সুবোধ সরকার, সিপিএম নেতা বিমান বসু এবং প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তীসহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব।
পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী এ পর্যন্ত বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, স্প্যানিশ, চাইনিজ ও ফরাসি ভাষায় প্রায় ২৫০টিরও বেশি মঞ্চনাটকে আবহ সঙ্গীত এবং নাট্যগানের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ১০০টিরও বেশি নাটক জাতীয় নাট্য বিদ্যালয় (এনএসডি) স্বীকৃত। এই ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে তিনি “সঙ্গীত নাটক একাডেমি” পুরস্কার লাভ করেন।
পাশাপাশি তিনি ২০টিরও বেশি শাস্ত্রীয় নৃত্য ও নৃত্যনাট্যে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।
শৈশব থেকেই সঙ্গীতচর্চায় নিবেদিত পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী মাত্র আড়াই বছর বয়সে সঙ্গীতে হাতে খড়ি নেন। কণ্ঠসঙ্গীতে আগ্রহ থাকলেও টনসিলের সমস্যার কারণে তিনি যন্ত্রসঙ্গীতে মনোনিবেশ করেন। সরোদের ওস্তাদ ধ্যানেশ খান ও পরে আশিষ খানের কাছে তিনি শিক্ষা নেন। এছাড়াও ওস্তাদ আলী আকবর খান, বিদুষী অন্নাপূর্ণা দেবী, বিদুষী আমেনা পেরেরা, পন্ডিত শঙ্কর ঘোষসহ একাধিক গুরুর কাছে সরোদ, সেতার, পাখওয়াজ, তবলা, নলতরঙ্গ, বাঁশি, পিয়ানো, সারেঙ্গী ও এসরাজে তালিম গ্রহণ করেন।
বহু যন্ত্রে পারদর্শিতা অর্জনের পরও তাঁর স্বপ্ন ছিল শততন্ত্রী বীণা শেখা। তখন এই বাদ্যযন্ত্রটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্তর্ভুক্ত না থাকায় কোনো গুরু পাওয়া যায়নি। ফলে গুরুবরদের কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও নিজস্ব সাধনার মাধ্যমে তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে শততন্ত্রী বীণায় সাধনা শুরু করেন। প্রায় ৩৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন কঠোর সাধনার পর তিনি শততন্ত্রী বীণায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশনে পূর্ণতা অর্জন করেন।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতাঙ্গনে ধ্রুপদ ঘরানায় শততন্ত্রী বীণাকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী আজ এক পথিকৃৎ নাম। “নাট্যযোদ্ধা” সম্মাননা তাঁর সেই দীর্ঘ সাধনা ও সৃষ্টিশীল অবদানেরই স্বীকৃতি।
বিআলো/তুরাগ



