নিউইয়র্কে পিয়াল হোসেনের ফ্যাশন ফেস্টে বাংলাদেশি ঐতিহ্যের বিশ্বযাত্রা
হৃদয় খান: বিশ্ব ফ্যাশনের রাজধানী নিউইয়র্কে বাঙালির শিকড়, ঐতিহ্য ও রুচির অনন্য প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প ও ফ্যাশনপণ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে বিশেষ ফ্যাশন ফেস্টের আয়োজন করছেন খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়াল হোসেন। জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ির মতো গর্বের ঐতিহ্যকে বিশ্ববাজারে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠাই তাঁর এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আগামী ১ মার্চ থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ ফ্যাশন ফেস্ট। মেলায় প্রদর্শিত হবে— জামদানি ও টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, পাঞ্জাবি, দেশীয় গহনা, শান্তিনিকেতনের তাঁত, সাউথ ইন্ডিয়ান কাঞ্জিপুরাম, ভারতীয় বেনারসি শাড়িসহ বাঙালি সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের নানা বৈচিত্র্যময় পোশাক ও পণ্য।
এই আয়োজনকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশি সেলিব্রেটি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রোমোটার ও শীর্ষস্থানীয় ইনফ্লুয়েন্সাররা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা একে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও ফ্যাশন শিল্পের জন্য একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর জামদানি বাংলাদেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এছাড়া এই বয়নশিল্প ইউনেস্কোর অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত।
২০২৩ সালে টাঙ্গাইল শাড়ির বুননশিল্পও ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এই দুই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গৌরব হিসেবে তুলে ধরছেন পিয়াল হোসেন।
নিজের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পিয়াল হোসেন বলেন, “আমাদের দেশীয় পণ্যগুলো বিশ্ববাজারে তুলে ধরা আমার স্বপ্ন ও লক্ষ্য। জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, এবার সেগুলোর বাজার আরও বিস্তৃত করতে চাই।”
তিনি আরও জানান, এর আগে দেশে সফলভাবে একাধিক আয়োজন করেছেন। এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দেশের ঐতিহ্য পৌঁছে দিতেই আমেরিকায় এই ফ্যাশন ফেস্টের আয়োজন।
পিয়াল হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাঙালিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এই মেলায় অংশ নেবেন এবং বাঙালির প্রিয় পোশাক ও পণ্য কিনে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখবেন।
বিআলো/তুরাগ



