নিখোঁজের তিন দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে বস্তাবন্দি শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিখোঁজের তিন দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১১ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম আয়েশা মনি। সে রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের বাসিন্দা বাবুল প্যাদার মেয়ে এবং নেতা সালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে আয়েশা মনি নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদা রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর টানা তিন দিন ধরে নিখোঁজ শিশুকে খুঁজতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়, এলাকায় মাইকিং করা হয় এবং স্বজন-প্রতিবেশীরা দল বেঁধে অনুসন্ধান চালান। কিন্তু কোথাও কোনো সূত্র না পেয়ে উৎকণ্ঠা আর উৎকট আশায় দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি।
অবশেষে রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে পুলিশ তদন্তে এসে বাড়ির বিভিন্ন অংশ তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে রান্নাঘরের এক কোণ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর আয়েশা মনির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এ দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।
নিহত আয়েশার মা আসমতারা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে প্রবাসে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, নিজের বাড়ির ভেতর থেকে এভাবে একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত ভয়ংকর ও রহস্যজনক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার শিশুটির বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে পুলিশের একটি টিম তদন্তে গিয়ে বাড়ির চারপাশ তল্লাশি করে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিআলো/এফএইচএস



