নিখোঁজের ৪৩ ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরেই মিলল স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ
ফরহাদ মৃধা, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ৪৩ ঘণ্টা পর এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে এক স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম আয়েশা মনি (১১)। সে স্থানীয় সালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝ নেতা গ্রামে আয়েশা মনির নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আয়েশা ওই গ্রামের বাবুল প্যাদার মেয়ে। তার মা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আয়েশা নিখোঁজ হয়। পরদিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) তার বাবা রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে আসছিলেন।
রোববার দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে রান্নাঘরের পাশে একটি বস্তা দেখতে পান নিহত আয়েশার মামা। পরে বস্তাটি খুলতেই ভেতরে আয়েশার মরদেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহত শিশুটির পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
শোকে অসুস্থ থাকায় আয়েশার বাবার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেরাজুল ইসলাম জানান, “শুক্রবার বিকেল থেকে শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। জিডির পর পুলিশ একটি টিম নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আজ আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করি। যেহেতু মেয়েটি শিশু, তাই নিজে থেকে কোথাও চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম—এই বিষয়টি মাথায় রেখে বাড়ির আশপাশে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে রান্নাঘরের পাশে বস্তাটি নজরে আসে। পরে বস্তা খুলে মরদেহ পাওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে আয়েশাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
বিআলো/তুরাগ



