নিরাপত্তা জোরদার করে কাল জকসু ভোট
জবি প্রতিনিধি: আগামী ৬ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌথভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ লক্ষ্যে রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা নেই—এ মর্মে প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন শুধুমাত্র বৈধ ভোটারদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ভোটার ব্যতীত কোনো শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা এবং ৩০ ডিসেম্বরের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, “নির্বাচনের দিন প্রধান ফটক দিয়ে শুধুমাত্র ভোটারদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে ২৭ নভেম্বর জকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। পরে ২৭ অক্টোবর অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। চূড়ান্ত বিধিমালা অনুমোদনের পর ৫ নভেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়।
প্রথম দফায় ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণার দিন নির্ধারিত হলেও ভূমিকম্প আতঙ্ক, ক্যাম্পাস বন্ধসহ বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। তবে ওই দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নতুন করে ৬ জানুয়ারি ভোটের দিন ঘোষণা করে।
বিআলো/ইমরান



