নির্মাণের শেষ ধাপে আলী জুলফিকার জাহেদীর ‘রক্তছায়া’
হৃদয় খান: নীরবতার ভাষায় বলা এক গভীর সামাজিক বাস্তবতা, যেখানে সহিংসতা শব্দ না হয়েও দীর্ঘ ছায়া ফেলে মানুষের জীবনে—এমনই এক সংবেদনশীল গল্প নিয়ে নির্মাণের শেষ ধাপে পৌঁছেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রক্তছায়া’। পরিচালক আলী জুলফিকার জাহেদীর এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে এবং ক্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির প্রথম লটের শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি এক লটের কাজ শেষ করেই আগামী মার্চ মাসে ক্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রুনা খান, আমান রেজা, নানজিবা তর্ষা, আফফান মিতুলসহ আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী। গল্পের প্রয়োজনে প্রতিটি চরিত্রকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, যা গল্পের আবেগ ও বাস্তবতাকে আরও গভীর করেছে।
‘রক্তছায়া’ একটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এতে পারিবারিক সহিংসতা, লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়ন এবং এসবের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কীভাবে একটি শিশুর মানসিক গঠনে গভীর ও স্থায়ী ছাপ ফেলে—তা সংবেদনশীল ও সংযত ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে সরাসরি বক্তব্যের পরিবর্তে নীরবতা, আবহ, প্রতীকী দৃশ্য ও ভিজ্যুয়াল ভাষার মাধ্যমে গল্প বলার চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্মাতা আলী জুলফিকার জাহেদীর ভাষায়, ‘রক্তছায়া’ কোনো একক ব্যক্তির গল্প নয়; এটি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা কিছু ভয়ংকর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তাঁর মতে, সহিংসতা কীভাবে ধীরে ধীরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং আমরা কীভাবে নীরবে তা মেনে নিই—এই প্রশ্নগুলোই চলচ্চিত্রটির মূল ভাবনা।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের মাধ্যমে ‘রক্তছায়া’ বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে নতুন এক পরিচয়ে তুলে ধরবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআলো/তুরাগ



