নীরব ভোটারই বড় ফ্যাক্টর, দিনাজপুর-১ আসনে জমে উঠেছে প্রচারণা
মো. মনসুর রহমান, দিনাজপুর : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-১ (কাহারোল-বীরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন।
হাট-বাজার, গ্রাম-মহল্লা ও চায়ের দোকানে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো নীরব অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না থাকায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও তা প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
তবে এই নীরব ভোটাররাই নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন তারা। বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তই এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে। দিনাজপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ১৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৯১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ২১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৮টি কাহারোল উপজেলায় ৪৩টি এবং বীরগঞ্জ উপজেলায় ৮৫টি। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা হলেন বিএনপির আলহাজ মুনজুরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. মতিউর রহমান, জাতীয় পার্টির মো. শাহিনুর ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের অ্যাড. চাঁন মিয়া, জাকের পার্টির রুঘুনাথ রায় এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. রিজুওয়ানুল হক ইসলাম।
সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে তারা যেন এবার নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় না থাকায় দিনাজপুর-১ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হতে পারে। তবে সংখ্যালঘু ভোটার ও তরুণ ভোটারদের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিআলো/আমিনা



