পবিত্র রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের দাবিতে অভিভাবক সমাবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গভাবে সিয়াম সাধনা ও দ্বীনি চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশের সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবিতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে ফালইফরাহু চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে সচেতন অভিভাবক মহল তাদের এ দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস। এই মাসে রোজা পালন, তারাবির নামাজ আদায়সহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বিদ্যালয় খোলা থাকায় শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে রোজা পালন ও ইবাদত করতে পারছে না।
অভিভাবক আব্দুর রউফ বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালা রমজান মাস দিয়েছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য। তাকওয়ার মাধ্যমেই মানুষের নীতি-নৈতিকতা গড়ে ওঠে। শিশু বয়সেই যদি দ্বীনি চর্চার সুযোগ তৈরি করা যায়, তবে ভবিষ্যতে তারা একজন পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”
অন্য অভিভাবক আনিসুর রহমান বলেন, “শিশু হচ্ছে কাঁচা মাটির মতো। এই বয়সেই তার মধ্যে দ্বীনি অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু রমজান মাসে নিয়মিত ক্লাসের কারণে তারা রোজা রাখতে কষ্ট পায়, তারাবির নামাজ পড়তে পারে না। এর ফলে নৈতিক শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজে নৈতিক অবক্ষয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান, যা রোধে রমজান মাসে দ্বীনি চর্চার পূর্ণ সুযোগ অত্যন্ত জরুরি।
অভিভাবক শফিউর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশ মুসলমান। পবিত্র রমজান মাসে ছুটি পাওয়া মুসলিম শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও সাংবিধানিক অধিকার। অথচ অমুসলিমদের বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসে স্কুল ছুটি দেওয়া হলেও মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মাসে ছুটি দেওয়া হচ্ছে না, যা চরম বৈষম্যমূলক।”
তিনি আরও বলেন, “অমুসলিমদের পূজা-পার্বণে মুসলমান শিক্ষার্থীদের ছুটির প্রয়োজন নেই। অথচ তাদের দিবসে নিয়মিত ছুটি দেওয়া হয়। এমনকি ইউরোপ-আমেরিকার মতো অমুসলিম প্রধান দেশেও মুসলমানদের ধর্মীয় দিবসে ছুটি দেওয়া হয় না। তাহলে আমাদের দেশে কেন এই বৈষম্য থাকবে?”
সমাবেশে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রমজান মাসে ছুটি না দেওয়ায় দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হলেও ২০২৬ সালে আবারও রোজার মধ্যে ক্লাস চালু করায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবকরা বলেন, “রমজান মাসে কলেজ বন্ধ থাকলেও শিশুদের স্কুল খোলা রাখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বরং শিশুদের জন্যই রমজানে ছুটি বেশি প্রয়োজন।” তারা আরও দাবি করেন, রমজানের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে অন্তত রমজান শুরুর সাত দিন আগেই স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা উচিত।
সমাবেশ শেষে অভিভাবকরা অবিলম্বে পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ করে ছুটি ঘোষণার দাবি জানান। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তারা।
বিআলো/তুরাগ



