• যোগাযোগ
  • অভিযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    পরিবেশ সুরক্ষায় সংস্কার কমিশন গঠন করুন ॥ পরিবেশ উপদেষ্টা 

     dailybangla 
    09th Jan 2026 6:49 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের পরিবেশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়’ শীর্ষক দু’দিন ব্যাপী বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণে বেসরকারি উদ্যোগে নাগরিক সংস্কার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।
    তিনি বলেছেন, সরকারের স্বল্প মেয়াদের কারণে নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো সংস্কারের জন্য ৬টি কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করেছে। এক্ষেত্রে পরিবেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। সরকারের সংস্কার কমিশনগুলো নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে করা হয়েছিলো। পরিবেশ ইস্যুতে নাগরিকদের নিয়ে এ ধরনের কমিশন গঠন করা যেতে পারে। বেসরকারি উদ্যোগে সেটা করা যেতে পারে।

    বাপা ও বেন আয়োজিত ওই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। সম্মেলনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাপা সহ-সভাপতি ও বেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম। বাপা’র সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বেন-এর বৈশ্বিক সমন্বয়কারি ড. মো. খালেকুজ্জামান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।

    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বর্তমান সরকারের কাজ শুরু করতে প্রথম চারমাস পার হয়ে গেছে। আর এখন তো নির্বাচনি জোয়ার শুরু হয়েছে। ফলে এই সরকার কাজের জন্য মাত্র এক বছর সময় পেয়েছে। আবার এই সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়েছে। এরমধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রাসঙ্গিক কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি অগ্রাধিকার দিচ্ছে না, এই অভিযোগ সঠিক নয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন পৃথক পরিবেশ ক্যাডার প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন পরিবেশকে মৌলিক অধিকারের তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু এ সকল সুপারিশ বর্তমান সরকারের স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

    সরকার যে কোন বিষয়ে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আমরা জবাবদিহি করতে ভয় পাই না। বরং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু ৫৪ বছরের যে জঞ্জাল, তা পরিস্কারের দায়িত্ব এই সরকারকে দিলে হবে? সে বিষয়ে এই সরকারের জবাবদিহি করা অসম্ভব। তবে পরিবেশ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংস্কার, নদ-নদী ও জলাশয় সুরক্ষা এবং শব্দ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

    বেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের আমলে অনেক সংস্কার কমিশন করা হলেও পরিবেশ ইস্যুতে কোনো কমিশন হয়নি। অথচ পরিবেশ সংস্কারের বিষয়টি জুলাই সনদ এবং রাজনৈতিক দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় খণ্ডকালীন ও সীমিত প্রকল্প থেকে সরে এসে কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনাসহ সব খাতে সমন্বিত ও পদ্ধতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জলবায়ুবান্ধব প্রযুক্তি প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

    বেন-এর বৈশ্বিক সমন্বয়কারী ড. খালেকুজ্জামান বলেন, অতীতে সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধাভোগীরা পরিবেশ বিনষ্ট করছে। আমরা চাই না দেশের পরিবেশ নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়ুক। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া দেশের পরিবেশ সুরক্ষিত হবে না। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
    অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ বলেন, অনেক চেষ্টা হলেও পরিবেশের কোন উন্নয়ন হয়নি। আমাদের রিসোর্স কম, কিন্তু জনসংখ্যা বেশি। পরিবেশ উন্নত করতে হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা রিসোর্স বাড়াতে হবে। পরিবেশ নীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সংস্কারের আহ্বান জানান তিনি।

    বাপা’র সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষায় বাপা দীর্ঘ ২৫ বছর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বছর পরিবেশ সংস্কার বিষয়ে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ সম্মেলনে যেসব প্রস্তাব আসবে, সেটা আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে দেব, যাতে তারা ইশতেহারে সেগুলোকে জায়গা দেয় এবং আগামীতে বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন শুরু হয়। এরআগে ‘রেজুলেশন অব বাপা- বেন কনফারেন্স : ২০০০-২০২৫’, ‘সাসটেনেবল আরবানাইজেশন : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড সলিউশন’ এবং ‘২৫ ইয়ারস অব বাপা : সাকসেস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন এনভায়রনমেন্টাল মুভমেন্টস’ শীর্ষক তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। দুই দিনের সম্মেলনে পানি উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, নগরায়ন ও ভৌত পরিকল্পনা, যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি, মৃত্তিকা ও খাদ্য দূষণ, বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন, পাহাড়, টিলা ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা এবং উপকূল, বন্দর, ও সমুদ্র পরিবেশ সুরক্ষা ইস্যুতে ৭টি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সম্মেলনে বিশ্বের ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ পরিবেশ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। সম্মেলন শেষে সুপারিশমালা তুলে ধরা হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ ৫ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

    বিআলো/এফএইচএস

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031