পাটকল পুনরায় চালু ও লীজ প্রথা বাতিলের দাবি জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দল সরকারের কাছে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি বন্ধ পাটকল পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনটি লীজ প্রথা বাতিল ও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পাকিস্তান আমল থেকে পাটশিল্প ছিল বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত। স্বাধীনতার পর দেশের মোট ৭৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মাধ্যমে এ শিল্পখাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দেশীয় কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল এই শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বিশ্বজুড়ে ছিল ব্যাপক।
তবে ১৯৮২ সাল থেকে লোকসানের অজুহাত তুলে একে একে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ৩০ জুন বিজেএমসি’র অধীন ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয় এবং ২ জুলাই থেকে এসব মিলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ পাওনা ও ক্ষতিপূরণ না দিয়েই হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়–যা ছিল সম্পূর্ণ অন্যায় ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বন্ধ ঘোষণার সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে মিলগুলো আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করা হবে এবং দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং, করোনা মহামারির সুযোগ নিয়ে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিদেশি প্রভুদের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প বন্ধ করে দেয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা মনে করি, দেশি–বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এক সঙ্গে ২৫টি পাটকল বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিককে বেকার করা হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি, শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষকের ওপর সরাসরি আঘাত।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটি নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করে, বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকল সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করতে হবে। শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। পাটকলগুলোর বেসরকারিকরণ ও লীজ প্রথা বাতিল করতে হবে। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনঃনিয়োগ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরুতেই এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের দুঃখ–দুর্দশা বুঝবে এবং শ্রমিকবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বিআলো/এফএইচএস