পানিতে নিরাপত্তা বাড়াতে বরগুনায় ৩২ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ
মো.নাজমুস সাকিব তানভির, বরগুনা: বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা ও তত্ত্বাবধানের ঘাটতির কারণে এই দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। এই পরিস্থিতি বদলে দিতে বরগুনায় কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় সংস্থাটি মোট ৩২ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তালতলী উপজেলায় পরিচালিত ১০০টি আঁচল কেন্দ্র এবং ২৫টি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিআইপিআরবির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় শিশুদের নিরাপদ তত্ত্বাবধান, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং জীবনরক্ষাকারী সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আঁচল কেন্দ্রগুলোতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখা হয়, যেখানে তারা মৌলিক শিক্ষা ও নিরাপত্তা আচরণ শেখে। বয়স ছয় হলে দক্ষ প্রশিক্ষকরা তাদের সাঁতার শেখান। এতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
সিআইপিআরবির গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ শিশুমৃত্যু ঘটে বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়টিতে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি, কারণ এ সময় নারীরা গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকেন। আঁচল কেন্দ্র চালুর পর থেকে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার দৃশ্যমানভাবে কমেছে।
সিআইপিআরবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর রজত সেন বলেন, আঁচল কেন্দ্রগুলো মূলত শিশুদের নিরাপদে রাখা এবং ছোটবেলা থেকেই জীবনরক্ষাকারী আচরণ শেখানোর একটি কার্যকর উদ্যোগ। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। অভিভাবকরাও নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন কাজ করতে পারছেন।
উপকূলীয় জেলা হওয়ায় বরগুনায় পানিবাহিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই আঁচল কেন্দ্র ও সাঁতার প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম সরকারি পর্যায়েও বিস্তৃত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিআলো/ইমরান



