• যোগাযোগ
  • অভিযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    পাহাড়ে জেঁকে বসেছে শৈতপ্রবাহ, সূর্যহীন দিনে স্থবির রাঙামাটি 

     dailybangla 
    05th Jan 2026 8:55 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    আবদুল হাই খোকন, (রাঙামাটি) পার্বত্য চট্টগ্রাম: পাহাড়ের আকাশ যেন দীর্ঘ সময়ের জন্য সূর্যকে আড়াল করে রেখেছে। চারপাশ ধূসর, বাতাসে কুয়াশার ভার আর কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে কয়েকদিন ধরে জেঁকে বসেছে তীব্র শৈতপ্রবাহ। সকাল থেকে সন্ধ্যা—কুয়াশা আর মেঘের চাদরে ঢাকা পাহাড়ি জনপদে জনজীবন পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার রাঙামাটির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ভোর ও রাতের দিকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

    তীব্র শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে পাহাড়ি এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। দিনমজুর, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও শিশুরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। কনকনে ঠান্ডায় অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। কোথাও আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা, কোথাও আবার পুরনো কাপড় ও কম্বলের ভেতরে গুটিসুটি মেরে বসে থাকার দৃশ্য চোখে পড়েছে।

    শৈতপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব জানান, তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা, শাকসবজি ও অন্যান্য শীতকালীন ফসল কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, “কুয়াশা ও নিম্ন তাপমাত্রার কারণে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

    শীতের কারণে হাটবাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। শ্রমজীবী মানুষের কাজের সময় কমে যাওয়ায় আয়ও কমছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচায়ও প্রভাব পড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

    এদিকে, এই আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও। রাঙামাটির বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও হাঁপানির সমস্যা নিয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।

    কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক রনি জানান, কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি শীত থেকে সুরক্ষার জন্য গরম কাপড় ব্যবহার, ভোর ও রাতের অতিরিক্ত ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।

    ঘন কুয়াশা ও মেঘে আচ্ছন্ন আকাশের কারণে রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সকালে সড়কে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ছে, যা যানবাহন চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ি অঞ্চলে ঘন কুয়াশার প্রবণতা বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বৃদ্ধি, বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন এবং উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বায়ুপ্রবাহ একসঙ্গে কাজ করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
    এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে একই ধরনের শীতল ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিআলো/তুরাগ

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031