পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা: বাস্তব নাকি নাটক!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মস্কোর প্রকাশ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ এটি বাস্তব হামলা ছিল নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো ঘটনা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেন সুপরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালালেও রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা ব্যর্থ করে দেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চল থেকে একযোগে ৯১টি ড্রোন ছোড়া হয়, যার লক্ষ্য ছিল নভগোরোড অঞ্চলের লেক ভালদাইয়ের কাছে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবন।
প্রকাশিত ভিডিওতে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোনের পাশে রুশ সেনাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাশিয়ার দাবি, ড্রোনটিতে প্রায় ছয় কেজি বিস্ফোরক ছিল এবং এটি সরাসরি প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করেই পাঠানো হয়েছিল।
তবে ইউক্রেন শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিকা বলেছেন, রাশিয়ার হাতে হামলার পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। কিয়েভের অভিযোগ, শান্তি আলোচনা ভেস্তে দিতেই মস্কো এই কাহিনি তৈরি করেছে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রাথমিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, পুতিন বা তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন কোনো হামলা চালায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইউক্রেন ওই অঞ্চলে অন্য একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর কথা ভাবলেও তা প্রেসিডেন্টের বাসভবনের আশপাশে ছিল না।
ঘটনাটি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বেগ প্রকাশ করে নতুন বছরের প্রাক্কালে উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। কূটনীতির মাধ্যমেই সংঘাত নিরসনের ওপর জোর দেন তিনি। ভারত ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান উদ্বেগ জানালেও ইউক্রেন এসব প্রতিক্রিয়াকে অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিআলো/শিলি



