পূর্বাচলে উৎসবমুখর পরিবেশে উত্তরা ক্লাবের বার্ষিক বনভোজন
জ. ই. বুলবুল: জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর অভিজাত ক্লাব ‘উত্তরা ক্লাব’-এর বার্ষিক বনভোজন ও পারিবারিক মিলনমেলা–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার অদূরে পূর্বাচল জলসিঁড়ি আবাসন এলাকার ফর্টিস স্পোর্টস গ্রাউন্ডে ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) দিনব্যাপী এই বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আয়োজন উপভোগ করেন ক্লাবের সদস্য ও তাঁদের পরিবারবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফয়সাল তাহের। এ সময় ক্লাবের পরিচালকবৃন্দসহ প্রায় দুই হাজার সদস্য ও তাঁদের পরিবার-পরিজন এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় অংশ নেন।
সকাল ১০টার দিকে প্রেসিডেন্ট ফয়সাল তাহের, ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) ক্যাপ্টেন ফারিয়াল বিলকিস, ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স) সালমান মাহমুদসহ অন্যান্য পরিচালকরা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সকালের নাস্তার পর শুরু হয় বিভিন্ন ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক ইভেন্ট। নামাজের বিরতির আগে অনুষ্ঠিত হয় ৬–৯ ও ৯–১২ বছর বয়সী বালকদের ৩০ মিটার দৌড়, বালিকাদের দৌড় প্রতিযোগিতা এবং মহিলাদের জন্য চেয়ার পাসিংসহ নানা খেলা।
মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীরা। পাশাপাশি ছিল পুতুল নাচ, হাউজি খেলা এবং র্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা, মেহেদি অঙ্কন, ঘোড়ার গাড়ি, শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী। খাবারের আয়োজনে ছিল পোলার আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা, চিতই ও ভাপা পিঠা, হাওয়াই মিঠাই, চিকন জিলাপিসহ নানা মুখরোচক খাবার—সবই সৌজন্য উপহার হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম বলেন, “এই চ্যারিটেবল ক্লাব আমাদের পারিবারিক জীবনের দ্বিতীয় ঘর। দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে এমন আয়োজন আমাদের পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।”
সিনিয়র সদস্য ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মোবারক হোসেন বলেন, “এই ক্লাবকে আমরা একটি সময়োপযোগী পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই। এখানে প্রতিটি আয়োজনই দৃষ্টিনন্দন ও উপভোগ্য।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফয়সাল তাহের বলেন, “এই সুন্দর আয়োজন সফল করতে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন—ডিরেক্টর (অ্যাডমিন), বনভোজন উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আগত সকল অতিথিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।”
বিআলো/তুরাগ



