প্রচণ্ড শীতকে হার মানিয়ে বোরো আবাদে ব্যস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকরা
মো. রায়হান, হাওর অঞ্চল: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান আবাদ। হাওরজুড়ে জমি চাষ ও ধান রোপণে চলছে যেন এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা। জমি হালচাষ, বীজতলা থেকে ধানের চারা উত্তোলন, জমিতে পানি দেওয়া এবং চারা রোপণের কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
প্রচণ্ড শীতের কারণে দিনমজুর শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, গত বছর যেখানে শ্রমিকদের দৈনিক পারিশ্রমিক ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান কৃষক জুবেল মাহমুদ ও মুজিবুর মিয়া।
শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই জমিতে নেমে পড়েছেন। কার আগে কে জমিতে ধান রোপণ শেষ করবেন—এ নিয়ে হাওরজুড়ে চলছে প্রতিযোগিতা। এর ফলে জমি হালচাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাহিদাও বেড়েছে। সুযোগ বুঝে ট্রাক্টর চালকরাও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত বছর যেখানে প্রতি কেদার জমি হালচাষে খরচ ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। তারপরও ট্রাক্টর পাওয়ার জন্য কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এদিকে হাওরের জমি সমতল না হওয়ায় উঁচু জমিতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। অনেক কৃষক অতিরিক্ত খরচ করে দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে পানির মেশিন বসিয়ে জমিতে পানি সরবরাহ করছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে বোরো আবাদের ব্যস্ততা। কনকনে শীত আর কুয়াশাকে হার মানিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন হার না মানা কৃষকেরা।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, “প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কিছুটা হলেও আবাদ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। শীত কমলে এবং সূর্যের দেখা মিললে আবাদ আরও গতি পাবে।”
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওরসহ ১২টি হাওর এবং নন-হাওর এলাকায় মোট ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত হাওর এলাকায় প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ৫০ শতাংশ জমিতে ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী বৈশাখে কৃষকদের গোলায় বাম্পার বোরো ধান উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চলতি মৌসুমে জগন্নাথপুর উপজেলায় বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১০ মেট্রিক টন।
বিআলো/ইমরান



