প্রথমবারের মতো মাদার কন্টেইনার জাহাজ নোঙর করেছে ভারতের ভিজিনজামে বন্দরে
অর্থনৈতিক প্রতিবেদকঃ ভারতের কেরালায় অবস্থিত ভিজিনজাম বন্দরে প্রথমবারের মতো সান ফার্নান্দো নামের একটি মাদার জাহাজ ভিড়েছে। ৮,০০০-৯,০০০ টিইইউ (বিশ-ফুট সমতুল্য ইউনিট) ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মারস্ক চালিত ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার জাহাজ সান ফার্নান্দোর, প্রায় ২ হাজার কন্টেইনার খালাস (অফলোড) করতে এবং ৪০০ কন্টেইনার চলাচলের জন্য এ বন্দর ব্যবহার করবে। গত শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড।
বৈশ্বিক ট্রান্সশিপমেন্টে প্রবেশের মাধ্যমে এই মাইলফলক সৃষ্টিকারী ঘটনা ভারতের সামুদ্রিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। মাদার জাহাজ নোঙর করার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে ভিজিনজাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হিসেবে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে।
অত্যাধুনিক অবকাঠামো এবং নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভারতের প্রথম স্বয়ংক্রিয় বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এ বন্দরের। এতে রয়েছে আধুনিক কন্টেইনার সামলানোর সরঞ্জাম এবং বিশ্বমানের অটোমেশন ও আইটি সিস্টেমসহ বড় জাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা।
ভারতের সর্ব-দক্ষিণের সমুদ্রবন্দরটিতে প্রথম মাদার জাহাজ নোঙর উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পিনারাই বিজয়ন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কেরালার বন্দরমন্ত্রী শ্রী ভিএন ভাসাভান। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও অভ্যন্তরীণ জলপথ মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
ভিজিনজাম বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড লিমিটেড (এপিএসইজেড) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক করণ আদানি বলেন, আমাদের এ বন্দরে সান ফার্নান্দোর নোঙর করা ভারতীয় সমুদ্রের ইতিহাসে একটি নতুন, গৌরবময় অর্জনের প্রতীক। বার্তাবাহকের মতো এটি পুরো বিশ্বকে জানান দেবে যে, ভারতের প্রথম ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল এবং বৃহত্তম গভীর জলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বন্দরের অত্যাধুনিক অবকাঠামো সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি আরও জানান, আমাদের নিজস্ব অত্যাধুনিক মুন্দ্রা বন্দর সহ ভারতের অন্য কোনো বন্দরে এই প্রযুক্তি নেই। আমরা ইতোমধ্যে এখানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি ইনস্টল করেছি। এবং একবার আমরা অটোমেশন ও ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পূর্ণ করে ফেললে, ভিজিনজাম প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোর একটি হিসেবে পরিণত হবে।
বর্তমানে, ভারতের কন্টেইনার বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ গন্তব্যের জন্য ট্রান্সশিপ করা হয়। এখন পর্যন্ত, বিশ্বের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সত্ত্বেও, দেশটিতে একটি একক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর ছিল না। এ কারণে ভারতের ট্রান্সশিপ করা কার্গোর তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৫ শতাংশ দেশটির বাইরের বন্দর দ্বারা পরিচালিত হয়। ভিজিনজাম সমুদ্রবন্দর শুধু ভারতে প্রবেশের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ট্রাফিককে সহজ করে তুলবে না, বরং কৌশলগতভাবে অবস্থিত এ বন্দরটি বিশ্বের অন্যান্য অংশের সঙ্গে ভারতকে সংযুক্ত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোকে জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রেও অপরিহার্য করে তুলবে।
বিআলো/তুরাগ