বরিশালে প্রেমের টানে ঘর ছাড়ল তরুণ-তরুণী, দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা
বরিশাল ব্যুরো: বরিশালে প্রেমের সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে ঘর ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি জমিয়েছে এক তরুণ-তরুণী। মেয়ের বয়স ও পারিবারিক আপত্তি তাদের সম্পর্কের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়া তরুণী বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লুতফুর রহমান সড়কের ভাড়াটিয়া ও নথুল্লাবাদ মাদ্রাসা কাঁচাবাজার এলাকার গরু-ছাগলের গোস্ত ব্যবসায়ী রোকনের বড় মেয়ে নদী। অপরদিকে তরুণ হলেন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকার আব্দুল আজিজ সড়কের বাসিন্দা দুলাল হাওলাদারের ছোট ছেলে ইয়াসিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল হাওলাদারের বড় ছেলে সোহেল দীর্ঘদিন ধরে রোকনের গোস্তের দোকানে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। এ সুবাদে দুই পরিবারের মধ্যে পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পরিবারের অজান্তে নদী ও ইয়াসিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা একপর্যায়ে তাদের ঘর ছাড়তে বাধ্য করে।
এদিকে নদীর মা অভিযোগ করেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার আগে ঘরে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা নগদ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চলে গেছে। তার দাবি, ছেলের পরিবারের সদস্যরা অর্থের লোভে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন। তবে ইয়াসিনের পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
নদী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার জেরে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকার আব্দুল আজিজ সড়কে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীর মা ও কয়েকজন নারী ইয়াসিনের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ইয়াসিনের মাকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা কোতোয়ালি মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই মামুন জানান, নিখোঁজ তরুণ-তরুণীর সন্ধানে উভয় পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিআলো/ইমরান



