বর্ষা পেরিয়ে শীতেও জনপ্রিয় বরিশালের ল্যাটকা খিচুড়ি
এইচ আর হীরা, বরিশাল ব্যুরো: বাঙালি বরাবরই ভোজনরসিক। সময়ের পরিবর্তনে অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবার নতুন রূপে ফিরে আসছে খাদ্যসংস্কৃতিতে। তেমনি এক সময় ঘরোয়া আয়োজন কিংবা মিলাদ মাহফিলে সীমাবদ্ধ থাকা ল্যাটকা খিচুড়ি এখন বরিশালের বাজার ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। এবারের শীতে নগরবাসী পাচ্ছেন ল্যাটকা খিচুড়ির এক ভিন্ন স্বাদ, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
নগরীর চৌমাথা বাজারের সামনে ‘খাবার নিয়ামত’ নামের একটি ভাসমান দোকানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ধোঁয়া ওঠা গরম ল্যাটকা খিচুড়ির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের কৌতূহল ও আগ্রহ আরও বেড়েছে। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউবা সড়কের পাশে বসেই উপভোগ করছেন এই ঐতিহ্যবাহী খাবার।
চৌমাথার পাশাপাশি বেলস পার্ক, নথুল্লাবাদ ও ৩০ গোডাউন এলাকাসহ নগরীর একাধিক স্থানে এখন ল্যাটকা খিচুড়ি বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা কাজী রাব্বি বলেন, “শীতের সময় বাইরে ল্যাটকা খিচুড়ি দেখে কৌতূহল থেকে খেয়েছিলাম। স্বাদ ভালো হওয়ায় আজ আবার ছোট ভাইদের নিয়ে এসেছি। পরিবেশও পরিষ্কার।”
আরেক ক্রেতা রাফি জানান, “গরম গরম ল্যাটকা খিচুড়ির সঙ্গে নানা ধরনের ভর্তা—শীতের জন্য দারুণ একটি খাবার।”
ভাইরাল ল্যাটকা খিচুড়ির বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, দেড় থেকে দুই মাস আগে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। হরেক রকম সবজি দিয়ে রান্না করা ল্যাটকা খিচুড়ি অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ প্লেট খিচুড়ি বিক্রি হচ্ছে। প্লেটভেদে দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু হয়, সঙ্গে থাকে ফ্রি ভর্তা। চাহিদা অনুযায়ী ডিম ভাজিও পরিবেশন করা হয়।
এক সময় গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত খাবার হিসেবে পরিচিত ল্যাটকা খিচুড়ি এখন শহরেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শুধু বর্ষাকালেই নয়, শীতকালেও মানুষের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ল্যাটকা খিচুড়ি নতুন করে শহুরে খাদ্যসংস্কৃতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করছে।
বিআলো/ইমরান



