বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা ২০২৫: শিশুদের রঙিন ইতিহাস
বিজয়ী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি
“১৪৩ জন শিক্ষার্থী হাতে পেল ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং মোট ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার”
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় উৎসাহ, সৃজনশীলতা আর রঙের জাদুতে ভরে উঠল “বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫”। একত্রিত হয়েছিল হাজার হাজার খুদে শিল্পী, যারা তাদের রঙিন ক্যানভাসে তুলে ধরেছে দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস—১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
চোখ ধাঁধানো প্রতিভা ও মনোমুগ্ধকর চিত্রকলার এই মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা শুধু পুরস্কারের জন্য নয়, ইতিহাসকে চিত্রে জীবন্ত করার আনন্দে ভরে উঠেছিল। দেশের সর্ববৃহৎ স্কুল পর্যায়ের এই চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় মোট ৫ হাজার ৮৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সৃজনশীলতা মূল্যায়ন করেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পীদের নিয়ে গঠিত জুরিবোর্ড। ১৪৩ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, যাদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং অর্থমূল্যসহ মোট ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার তুলে দেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান।
প্রতিযোগিতার তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল: প্রথম স্থান ৩ লাখ, দ্বিতীয় ২ লাখ, তৃতীয় ১ লাখ, চতুর্থ ৭০ হাজার এবং পঞ্চম ৫০ হাজার টাকা।
প্রথম ক্যাটাগরিতে (তৃতীয়–ষষ্ঠ শ্রেণি) প্রথম স্থান অর্জন করেন আরাত্রিকা বড়াল (বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, তৃতীয় শ্রেণি), দ্বিতীয় রাইছা ইসলাম জেছি (উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ষষ্ঠ শ্রেণি), এবং তৃতীয় সৌভিক সাহা (নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল, ষষ্ঠ শ্রেণি)। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে (সপ্তম–দশম শ্রেণি) প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সুপ্রভা সাহা (নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজ, দশম শ্রেণি), দ্বিতীয় মো. ইমরুল কায়েস রাফসান (এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ, নবম শ্রেণি) এবং তৃতীয় নাদিদ বিনোদপুর (রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়, অষ্টম শ্রেণি)। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান মায়াস রাসদান (এজাজ ভিশন গ্লোবাল স্কুল, চতুর্থ শ্রেণি)।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার বিকাল ৫:৩০টায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি), নবরাত্রি হলে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পেনের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী গুরু মনিরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইয়াশা সোবহান, এবং বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী ড. ফরিদা জামান, সাহিত্যিক এমদাদুল হক মিলন, ও অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান।
জুরিবোর্ডে ছিলেন লোকজ শিল্পের রূপকার আবদুস শাকুর শাহ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী ড. ফরিদা জামান, একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন, এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ।
প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে ৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত খুদে শিল্পীরা একসঙ্গে বসে তাদের সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেন।
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা শিশুদের কল্পনা ও সৃজনশীলতাকে প্রণোদিত করেছে। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং আনন্দময় প্রতিযোগিতার মিলনে এই প্রতিযোগিতা হয়ে উঠেছে দেশের খুদে শিল্পীদের জন্য এক স্মরণীয় মঞ্চ।
বিআলো/তুরাগ



