বাঁশখালীতে খাল খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ অবশেষে কেটে গেছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মুজিবুর রহমান সিআইপির ব্যক্তিগত অর্থায়নে খাল খননের ফলে বর্ষাকালে নোয়াঘোনায় পানি জমে থাকা, চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও রাস্তাঘাটে চলাচলের দুর্ভোগ এখন অতীত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্নপুর গ্রামে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুম এলেই বিস্তীর্ণ নোয়াঘোনায় পানি জমে থাকত। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতো এবং গ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যেত। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে গেলে শিল্পপতি মুজিবুর রহমান সিআইপি রত্নপুর এলাকায় বিশাল বিল অনাবাদি পড়ে থাকতে দেখে এর কারণ জানতে চান। তখন স্থানীয় জনগণ জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল খননের জোরালো দাবি জানান।
সে সময় মুজিবুর রহমান সিআইপি রত্নপুরবাসীর কাছে দৃঢ় অঙ্গীকার করেন তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন বা না হোন জলাবদ্ধতার এই প্রধান সমস্যা তিনি সমাধান করবেন। পরবর্তীতে বাঁশখালীর সাধারণ জনগণের বিপুল ভোটে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের পর তিনি সরকারি কোনো বরাদ্দ ছাড়াই নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ৩০ শতক জমি ক্রয় করেন, যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ওই জমির ওপর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে নোয়াঘোনার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
খাল খননের পর থেকে রত্নপুর এলাকার কৃষকরা এর সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন। আগে যেখানে পানি জমে থাকায় ফসল হতো না, সেখানে এখন নিয়মিত চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, আগের তুলনায় ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে বিল থেকে পানি নামার প্রবল স্রোতের কারণে খালের পাশে ভাঙণ দেখা দিলে জমির মালিকরা নতুন করে উদ্বেগে পড়েন।
তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরবর্তীতে জমির মালিক ও স্থানীয়রা বিষয়টি সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান সিআইপিকে অবহিত করেন এবং খালের পাশে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের অনুরোধ জানান।
তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বর্তমানে মুজিবুর রহমান সিআইপির ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে খালের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩২০ ফুট অংশে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইনশাআল্লাহ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে। বিলে পানি জমে না থাকায় আগামী মৌসুম থেকে নোয়াঘোনায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিআলো/আমিনা



