বাংলাদেশি ফ্যাশনে কাশ্মীরি মডেলের পদচারণা: সামাজিক বাধা ভেঙে স্বপ্নপূরণের গল্প
৯৫ কেজি থেকে ৭৯ কেজি: অধ্যবসায় আর আত্মনিয়ন্ত্রণের জার্নি
হৃদয় খান: এই গল্পটি এখন অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস। ৯৫ কেজি থেকে ৬৯ কেজি—এখানে ওজন কমানোর সংখ্যা শুধু মাত্র শব্দে নয়, এটি একটি জীবনের গল্প, যেখানে অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসই হয়ে উঠেছে মূল ব্র্যান্ড। বাংলাদেশি ফ্যাশনে কাশ্মীরি তরুণের পদচারণা এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক।
সামাজিক কলঙ্ক ভেঙে নিজের পরিচয় নতুন করে গড়ে তোলার এই যাত্রা সহজ ছিল না। একসময় উচ্চ ওজনের কারণে নিজের প্রতি অনাস্থা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল তার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু নিয়মিত অনুশীলন, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে তিনি এই চ্যালেঞ্জকে জয় করেছেন। শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে বদলেছে তার আত্মবিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনের লক্ষ্য।
পড়াশোনায় তিনি একজন এমবিবিএস শিক্ষার্থী। ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের মাঝেও শখের বশে মডেলিং শুরু করেন। শুরুটা সহজ ছিল না। পরিবার, সমাজ—বিভিন্ন দিক থেকে এসেছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা। তবে তিনি থেমে যাননি। পড়াশোনা ও মডেলিং দুটোই সামলে ধীরে ধীরে নিজেকে আরও পরিণত ও পেশাদার করে তুলেছেন।
আজ তিনি কাজ করছেন বাংলাদেশ ও ভারতের ৫০টির বেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে। বাংলাদেশের সেইলর, ইয়োলো, টুয়েলভ, প্রাণ, ভিভো, প্রেম কালেকশন, ফিট এলিগেন্স, লা রিভসহ একাধিক পরিচিত ব্র্যান্ডে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন ডিজাইনার পোশাকের ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।
তবে তার যাত্রার সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক শুধু সাফল্য নয়, মানসিকতা। মডেলিং থেকে পাওয়া আয়ের বড় একটি অংশ তিনি ব্যয় করেন সামাজিক কাজে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করাকেই তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন।
চ্যালেঞ্জ, সমালোচনা আর বাধা পেরিয়ে তিনি দেখিয়েছেন—ইচ্ছা ও অধ্যবসায় থাকলে সামাজিক শৃঙ্খল ভাঙা যায়। নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধে অটল থেকে তিনি তৈরি করছেন এক ভিন্ন উদাহরণ, যা নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়।
বিআলো/তুরাগ



