বাউফলে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
মো. তরিকুল ইসলাম (মোস্তফা), বাউফল (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তথ্য জানতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতর এক সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাহামুদুল হাসান হিরন ও তার ভাই মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুবেল হোসেন দৈনিক জনতার জমিন পত্রিকার বাউফল প্রতিনিধি এবং বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য সচিব মাহামুদুল হাসান হিরনের বিরুদ্ধে নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পরও সম্প্রতি ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন নতুন অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুবেল হোসেন ইউপি সচিবের দপ্তরে গেলে সেখানে উপস্থিত সচিবের ভাই মইনুল ইসলাম সাংবাদিকের ছবি ও ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় ভিডিও ধারণে আপত্তি জানালে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে সচিব ও তার ভাই সাংবাদিক রুবেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনায় সাংবাদিক রুবেল হোসেন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ইউপি সচিব মাহামুদুল হাসান হিরন ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব আসেনি।
এদিকে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউপি কার্যালয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়েছে বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটি ও পটুয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাব। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিআলো/আমিনা



