বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে নথুল্লাবাদে সেনাবাহিনীর অভিযান
এইচ আর হীরা, বরিশাল ব্যুরো: বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেনা ক্যাম্পে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দূরপাল্লার যাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালায় টহল দল। এ সময় মহানগর
ছাত্রদলের সহ সভাপতি মোঃ সাকিবুল হক রাসেল এবং তার সহযোগী শামিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার পর বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মেলে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত ভাড়া ৪০০–৫০০ টাকার স্থলে ৬০০–৭০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচন উপলক্ষে বাড়ি আসা–যাওয়ার সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় কর্মরত এক যাত্রী বলেন, ছুটি পেয়ে ভোট দিতে বাড়িতে এসেছিলেন, কিন্তু যাতায়াতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে।
ছাত্রদল নেতা রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে পেরেছে। একই সঙ্গে এলাকায় কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়, অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সতর্কবার্তা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আবারও অভিযান চালানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী ভ্রমণ চাপে ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি জরুরি। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে যাত্রী ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা তাদের।
বিআলো/এফএইচএস



