বিএনপিকে সুযোগ দিন—নিরাপদ দেশ গড়ব: তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিরাপদ জীবন, টেকসই অর্থনীতি ও সম্মানজনক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপিকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একমাত্র বিএনপিরই একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে, যা কাজে লাগিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে পুনর্গঠন করা সম্ভব।”
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কামাল আহবান এভিনিউ সংলগ্ন পূজার মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ঢাকায় এ পথসভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রচারণার দ্বিতীয় ও শেষ দিনের কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের বহু দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। আমরাও পারব—যদি জনগণ আমাদের সেই সুযোগ দেয়।”
তিনি জানান, বিএনপি এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যেখানে সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী, কৃষক, যুবক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি।
নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নারীরা জনগোষ্ঠীর অর্ধেক। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার জন্য যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করায় নারী শিক্ষা আজ অনেক দূর এগিয়েছে। এখন প্রয়োজন তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।”
এ লক্ষ্যে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে এবং বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের আয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবে এবং নিজেদের জীবনমান উন্নত করতে পারবে।
দেশের বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সহজ প্রক্রিয়ায় যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা দেশে কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থান পেতে পারে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যারা যাবে, তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে—যাতে জমি বিক্রি করতে বাধ্য না হয়।”
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হবে।
এছাড়া মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের আর্থিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ধর্মগুরুরা যেন মানবেতর জীবন যাপন করতে না বাধ্য হন, সেজন্য বিএনপি ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করবে—যাতে তারা সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারেন।”
এলাকাবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান। এই এলাকার আলো-বাতাসে আমি বড় হয়েছি। আমার ভাই ও সন্তানদের জন্মও এই এলাকাতেই। এই মাটির সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক। একজন সন্তান হিসেবে আমি ধানের শীষের পক্ষে আপনাদের পূর্ণ সমর্থন চাই।”
তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, “মৃত্যুর ভয় না করে তিনি দেশেই থেকে গেছেন এবং আপনাদের মাঝেই মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৯৯১ সালে এই আসন থেকেই তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছিলেন। এবার আপনারা আমাকেও ভোট দেবেন।”
তারেক রহমান মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। গত ১৭ বছরে আমাদের নেতাকর্মীরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে বহু যোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন। এত রক্তে গড়া এই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই হবে তাদের রক্তের ঋণ শোধ।”
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা উত্তরের জনতার মেয়র তাবিথ আউয়ালসহ গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট, ভাষানটেক ও বাড্ডা থানার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এই এলাকার মোরগ মার্কার প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহ ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমানের পক্ষে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি তার নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিআলো/তুরাগ



