বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাউন্টেন কনজুমার এমডি হুরমত আলীকে হুমকি দিচ্ছেন মামুন ভূঁইয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: মাউন্টেন কনজুমার লিমিটেড এর বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে উল্টো প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুরমত আলীকে হুমকি দিচ্ছেন চাঁদাবাজ মামুন ভূঁইয়া। ইতোমধ্যে মামুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রাণনাশের হুমকির একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। (মামলা নং- ৯৩১/২৫, ধারা- ৪২০/৪০৬/৪০৩/৫০৬ দঃবিঃ-১৮৬০)। মামুনের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছে। এছাড়াও এ ব্যাপারে ডিএমপির দক্ষিণ খান থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়ে। জিডি নং- ১৮৪৮, তারিখ- ২৭-০৮-২০২৫। জিডি নং- ৫৯১,তারিখ- ০৯-০৭-২০২৫।
মামলা ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, মামুন ভূঁইয়া অতীতে যুবলীগের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় দেশীয় অস্ত্র হাতে তার প্রকাশ্য মিছিলে অংশগ্রহণের একাধিক ছবি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আত্মসাৎ করা অর্থের জোরে মামুন এখনো গোপালগঞ্জে আত্মগোপনে থেকে নানা হুমকি দিয়ে চলেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ী মহলকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছেন। ব্যবসায়ী সমাজের দাবি দ্রুত এই সন্ত্রাসী মামুন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সেই সঙ্গে মাউন্টেন কনজুমার লিমিটেড পরিবার সন্ত্রাসী মামুনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কোম্পানির পরিচালক হেলাল উদ্দিন জানান, গত তিন বছর ধরে মামুন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব-নিকাশ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। সুযোগ বুঝে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন এবং গত চলতি বছরের ২৬ জুন তারিখে কোনো হিসাব না দিয়ে স্বপরিবারে গোপালগঞ্জে পালিয়ে যান। হিসাব চাইলে মামুন প্রকাশ্যে হুমকি দেন, কোনো হিসাব দেওয়া হবে না, উল্টো বড় ক্ষতি করা হবে এবং মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হবে। এই ঘটনায় দক্ষিণ খান থানায় ৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৯৯) করা হয়। ইতোমধ্যে মামুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রাণনাশের হুমকির একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং- ৯৩১/২৫, ধারা- ৪২০/৪০৬/৪০৩/৫০৬ দঃবিঃ-১৮৬০) মামুনের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছে।
কোম্পানির সাবেক আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত মামুন ভূঁইয়া কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, হুরমত আলীকে ভয় দেখাতে তিনি সাইন করা চেক দিয়ে মিথ্যা মামলার ফাঁদে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হুরমত আলী ইতোমধ্যে দক্ষিণ খান থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৫৯১ ও ১৮৪৮) করেছেন। ওই জিডিতে একাধিক সাইন করা চেক হারানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ মামুন ভূঁইয়া বিভিন্ন মহলে গর্ব করে বলছেন, আমার কাছে সাইন করা চেক আছে। আমি ডিজঅনার করিয়ে মামলা দেব, হুরমতকে পথে বসিয়ে ছাড়ব।
ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি এবং ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ফায়দাবাদ শাখার দুটি জিডিতে উল্লেখিত চেক ছাড়াও সাইন করা বহু চেক প্রতারক মামুন ভূঁইয়া আত্মসাৎ করেছে। যেহেতু সে দীর্ঘদিন ব্যাংক লেনদেন করতো, সেই সরল সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব চেক নিজের কাছে রেখে দেয়। কেবল অফিস ও ফ্যাক্টরিতেই নয়, মামুন ভূঁইয়া তার বাহিনী দিয়ে হুরমত আলীর বাসার নিরাপত্তাকর্মীদেরও হুমকি দিচ্ছে এবং চাঁদা দাবি করছে। এই আতঙ্কের কারণে পরিবারের শিশুদের স্কুল ও মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো পরিবার বন্দি জীবনে দিন কাটাচ্ছে।
এ ব্যাপারে মামুন ভূঁইয়ার মোবাইল নম্বরে (০১৮৮২৩১৭৯৬১) একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বিআলো/ইমরান