বিশ্বজয়ী ও কৃতি হাফেজদের সম্মানে রাজধানীতে সংবর্ধনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরআনের খেদমতে নিয়োজিত বিশ্বজয়ী ও কৃতি হাফেজদের সম্মান জানাতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ইসলামী কালচারাল সোসাইটি ও মাসিক মানবজীবন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইসলামী সেবায় অবদান রাখা গুণীজন ও মেধাবী হাফেজদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মগবাজার মোড়ের একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয় “ইসলামী সেবক সম্মাননা ও বিশ্বজয়ী হাফেজ–কৃতি হাফেজ সংবর্ধনা ২০২৫”। অনুষ্ঠানে ইসলামী সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৫ জন গুণী ব্যক্তিকে ইসলামী সেবক সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে একজন বিশ্বজয়ী হাফেজ এবং বেফাক বোর্ড পরীক্ষা ও হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের বার্ষিক পরীক্ষায় মুমতাজ বিভাগে উত্তীর্ণ ও মেধাস্থান অর্জনকারী মোট ৩৯ জন কৃতি হাফেজকে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও উত্তরীয় প্রদান করে সংবর্ধিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক, জেলা ও দায়রা জজ বিচারক আ. ছালাম খান। তিনি বলেন, হাফেজে কোরআনরা শুধু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন; তারা সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান বাহক। সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হাফেজদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংগঠনগুলোকেও সম্মাননা, সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নতুনধারা এসেটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. সাদী-উজ-জামান, বাংলা টিভির পরিচালক মীর শামস শান্তনু, ঢাকা-৭ আসনের এমপি পদপ্রার্থী হাজী মুনির হোসেন, বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন, জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ও সংবাদ উপস্থাপক ও মোটিভেশনাল স্পিকার লায়ন এম আলমগীর, হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক, পাওয়ার প্লাস ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রিয়াজুল করিম, মানহা গ্রুপ বিডি লি. এর চেয়ারম্যান ড. মুহিবুল্লাহ শাহিন, রসনা ঘরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. সুমন খন্দকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এস এম মিজানুর রহমান লিটন এবং চিকিৎসক ডা. মো. সালাহউদ্দিন মোল্লা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাসিক মানবজীবন-এর সম্পাদক ও ইসলামী কালচারাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইমদাদুল হক তৈয়ব। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃতি হাফেজদের সম্মান জানানো কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি কোরআনের খেদমতে নিয়োজিতদের প্রতি সমাজের নৈতিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে আলেম-উলামা, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, ২০২৬ সালে এক হাজার কৃতি হাফেজকে সংবর্ধনা প্রদানের লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। আজকের আয়োজন সেই বৃহৎ উদ্যোগের শুভ সূচনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শুভানুধ্যায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন আয়োজকরা।
বিআলো/তুরাগ



