ভেদরগঞ্জ ভূমি অফিসের চেইনম্যান খালেক-এর বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়, দুদক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত হওয়ার দাবি অভিযোগপত্রে
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরির আড়ালে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল খালেক, যিনি চেইনম্যান পদে কর্মরত থাকলেও তার নামে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এ সংক্রান্ত অভিযোগ ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, চাকরিতে যোগদানের সময় আব্দুল খালেক তথ্য গোপন করে সরকারি পদ বাগিয়ে নেন। পরে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তিনি নিয়মিত অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যান। অভিযোগে তাকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর ও সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, খাসের হাটবাজার এলাকায় আব্দুল খালেকের মালিকানাধীন ৮ থেকে ১২টি দোকান রয়েছে, যেগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে তার নামে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। অতি সম্প্রতি তিনি প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি জমিও ক্রয় করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতার দাপটে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলতেন। অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরা তার সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই।তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “অভিযোগের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল খালেক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর রয়েছে তদন্তের অগ্রগতির দিকে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
বিআলো/তুরাগ



