ভোটারদের নিরাপত্তাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব: যশোরে ডিআইজি
আসাদুল ইসলাম শাওন, যশোর : খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল হক রেজা পিপিএম বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ডিআইজি রেজা স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। ভোটের বাক্সের সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই।
পুলিশের একমাত্র দায়িত্ব হলো সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের প্রস্তুতি ও গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুলিশ একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
ডিআইজি আরও জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো পুলিশ সদস্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনসম্মত সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে রাবার বুলেট ব্যবহারের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এটাই পুলিশের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে ডিআইজি রেজা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবারের নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালেট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, পুলিশ বাহিনী তা শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে।
ডিআইজি রেজা আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (কুইক রেসপন্স টিম) গঠন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
বিআলো/আমিনা



