মডেলিং আমার কাছে গ্ল্যামার না, এটা পেশা— রাজ ম্যানিয়া
র্যাম্প হোক বা ফটোশুট— কাজই শেষ কথা
হৃদয় খান: র্যাম্পের আলো ঝলমলে দুনিয়ায় যেখানে গ্ল্যামারই হয়ে ওঠে পরিচয়ের প্রধান মাপকাঠি, সেখানে ব্যতিক্রমী কণ্ঠে এক মডেল বলছেন— “মডেলিং আমার কাছে গ্ল্যামার না, এটা পেশা।” দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলায় কাজকেই একমাত্র শক্তি করে সামনে এগিয়ে চলেছেন রাজ ম্যানিয়া। আলোচনার চেয়ে কাজকে প্রাধান্য দেওয়া এই মডেল একেবারে নিচ থেকে শুরু করে আজ দেশের ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ।
বাংলাদেশের ফ্যাশন জগতে তার আসল নাম আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি বেশি পরিচিত রাজ ম্যানিয়া নামেই। কথা শুরুতেই নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার পুরো নাম আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। অনেকে আমাকে রাজ ম্যানিয়া নামেই চেনে।”
যেভাবে শুরু
মিডিয়ায় মাহফুজের পথচলা শুরু হয় ২০১১ সালে। বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনে ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট হিসেবে প্রথম কাজ করেন তিনি। সে সময় সামনে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। “অভিজ্ঞতার জন্যই কাজ করতে গিয়েছিলাম,” বলেন তিনি। ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে করতেই র্যাম্প শো ও ফটোশুটের জন্য রেফার করা হয় তাকে। অডিশনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন মূলধারায়।
দীর্ঘ পথচলার বাস্তবতা
সাফল্য আর ব্যর্থতাকে আলাদা করে দেখেন না রাজ ম্যানিয়া। তার ভাষায়, “ক্লাস ওয়ান থেকে টুতে উঠতেও কষ্ট হয়। প্রতিটা পেশাতেই কষ্ট আছে। এটা ব্যর্থতা না, জীবনের অংশ।” নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। “আমি কারো জায়গা দখল করি না, নিজের মতো কাজ করি, কাজ শেষে বাসায় চলে যাই।
কাজ মানেই কাজ
ইলেকট্রনিক মিডিয়া না র্যাম্প— কোনটা বেশি পছন্দ? প্রশ্নে তিনি একদম স্পষ্ট। “যেটাতে টাকা বেশি, সেটাতেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দিনশেষে পয়সা গুরুত্বপূর্ণ।” তার মতে, কাজকে গ্ল্যামার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ফটোশুট হোক বা র্যাম্প— যেটা নিজের সঙ্গে যায়, সেটাই করেন।
নতুনদের জন্য বার্তা
নতুন প্রজন্মের মডেলদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ বাস্তবভিত্তিক। এখন গ্রুমিং স্কুলসহ নানা সুযোগ থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। “অনেকে অনলাইনে হাইপ তুলছে, কিন্তু বাস্তবে কাজ পাচ্ছে না,” বলেন রাজ ম্যানিয়া।
সোশ্যাল মিডিয়া বনাম বাস্তব কাজ
তার মতে, সোশ্যাল মিডিয়া সাময়িক। “সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ হলে অনেকের ক্যারিয়ার থেমে যাবে। আমাদের শক্তি কাজ। ভালো কাজ আর ভালো ছবি— এগুলোর মধ্যেই আত্মার শান্তি।”
সিনেমা নিয়ে অবস্থান
সিনেমা নিয়ে তার ভাবনা স্পষ্ট। “ইচ্ছা থাকলেই সিনেমা করা যায় না। আমাকে নিয়ে সিনেমা বিক্রি হবে কি না, সেটাই আসল।” তাই সময় ও পরিস্থিতি উপযোগী না হলে সিনেমায় আসতে চান না তিনি।

কাজের পরিধি
১৫ বছরের ক্যারিয়ারে দেশের প্রায় সব বড় ফ্যাশন হাউজের সঙ্গে কাজ করেছেন রাজ ম্যানিয়া। আড়ং, ফ্রিল্যান্ড, লেরীভ, ইয়োলো, অঞ্জনস, কে ক্রাফট, ক্যাটসআই, মনসুনরেইন, নাবিক, অনন্ত, রিচম্যান ও লুবনানের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাঁচ শতাধিক র্যাম্প শো করেছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ ভাবনা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি মুচকি হেসে বলেন, “ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ডিনার করতে চাই।” রসিকতার আড়ালেও লুকিয়ে আছে বাস্তবতা— এই দেশে ফ্যাশন সচেতনতা এখনও সীমিত। তবুও নিজের মতো করে কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।
শেষ কথা
রাজ ম্যানিয়ার গল্প গ্ল্যামারের নয়, এটি পরিশ্রম, ধৈর্য ও বাস্তবতার গল্প। যেখানে আলো নয়, কাজই আসল পরিচয়।
বিআলো/তুরাগ



