মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য ঘিরে বাউফল বিএনপিতে তীব্র অসন্তোষ
মো. তারিকুল ইসলাম (মোস্তফা),বাউফল (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মনোনীত প্রার্থীর সাম্প্রতিক বক্তব্য দলীয় শিষ্টাচার ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার নামে বাউফলের মূল ধারার নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টায় বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠসংলগ্ন বিএনপির প্রধান দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মীসভায় এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে তোলা হয়।
কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মু. মুনির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মু. মুনির হোসেন বলেন, “ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সভায় বক্তব্য রাখেন বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মাসুম বিল্লাহ পলাশ। তিনি বলেন, “২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে ভিন্ন প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয় আমরা ভুলে যেতে চাই। তবে এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—বিএনপি রাজনীতি কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি নয়। ‘বিএনপি করতে হলে আমার এখানেই আসতে হবে’—এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল জব্বার মৃধা বলেন, বাউফল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে রাজনীতি করে আসছেন। কিন্তু মনোনীত প্রার্থীর সাম্প্রতিক বক্তব্য কোনোভাবেই দলীয় বা সাংগঠনিক ভাষা হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর বাউফল পাবলিক মাঠে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, *“আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে তারেক রহমান, তুই মানিস না—নামার কে?”*—যা স্পষ্টভাবে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এছাড়া গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নিজ বাসভবনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য—*“বাউফলে বিএনপি করতে হলে আমার হাত ধরেই করতে হবে”*—নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
কর্মীসভায় আরও অভিযোগ করা হয়, বাউফলের বিভিন্ন ইউনিয়নে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি অনুমোদিত মূল কমিটির নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরিকল্পিতভাবে মূল ধারার নেতাদের বাদ দিয়ে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
নেতাকর্মীরা বলেন, দলীয় নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন ও সিনিয়র নেতাদের অসম্মান করলে নির্বাচনী মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একতরফা সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সভা শেষে দলীয় ঐক্য অটুট রেখে সকল নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিআলো/ইমরান



