মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে গিয়াসউদ্দিনের আপিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিনি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে এ আপিল দায়ের করেন। আপিলের শুনানির দিন আগামী ১৯ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।
আপিল আবেদনে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম মান্নানের দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। সঠিকভাবে যাচাই করা হলে তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
আবেদনে বলা হয়, আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামার ফরম-২১ এ স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ও মিথ্যা উল্লেখ করেছেন এবং বার্ষিক আয়ের তথ্য গোপন করেছেন। তিনি মাত্র দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশ করেছেন, যেখানে ৫২ হাজার ৬৮০ টাকা জমা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকায় রক্ষিত একটি অ্যাকাউন্টসহ আরও একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য গোপন করেছেন। এমনকি প্রিমিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত একটি অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করলেও অন্যান্য ব্যাংকে রক্ষিত প্রায় দশটি অ্যাকাউন্ট গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আপিলে আরও উল্লেখ করা হয়, আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ সন্তানের জনক হলেও মনোনয়নপত্রে মাত্র দুই পুত্রের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তিন সন্তানের তথ্য গোপন করেছেন। তার সন্তানদের মধ্যে খায়রুল ইসলাম সজিব ও সাইদুল ইসলাম শাকিল মিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিত এবং তাদের টিআইএন নম্বর রয়েছে। তার স্ত্রীরও টিআইএন নম্বর রয়েছে এবং পরিবারের বিপুল সম্পত্তি রয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়। এতে নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া, আজহারুল ইসলাম মান্নান তার পেশা ও ব্যবসার তথ্যও গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি ‘মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস’ নামে একটি ফার্ম পরিচালনা করলেও সেটির কোনো তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি এবং ফার্মের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরও গোপন রেখেছেন।
মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদের (১) ধারার অধীনে যাচাই-বাছাইয়ের সময় আপত্তি উত্থাপন করা হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো সংক্ষিপ্ত তদন্ত ছাড়াই অবৈধভাবে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন, যা আইন পরিপন্থী এবং বাতিলযোগ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
বিআলো/তুরাগ



