মা, মাটি ও মানুষের গল্পে শেকড়ের গান লিখছেন মনসাদ
স্পেন থেকে বাংলার গানকে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্নে ব্যস্ত এই তরুণ
হৃদয় খান: দেশের মাটি থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলার গানেই নিজের ঠিকানা খুঁজে নিচ্ছেন গীতিকার মুমিতুর রাহমান মনসাদ। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও তার কলমে ফিরে আসে শেকড়ের টান, লোকজ সুর আর সাধারণ মানুষের অনুভব—যা আজ জায়গা করে নিচ্ছে শ্রোতার হৃদয়ে।
দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বাংলা গানই মুমিতুর রাহমান মনসাদের আত্মপরিচয়। বর্তমানে স্পেনপ্রবাসী এই তরুণ গীতিকার সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ঘড়ুয়া গ্রামের সন্তান। প্রবাসজীবনের কর্মব্যস্ততার ফাঁকে কলম ধরলেই তার লেখায় ফুটে ওঠে মা, মাটি ও মানুষের গল্প—বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের আবহে।
শিক্ষাজীবনে মনসাদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঘড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বালিংগা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি নিয়মিত মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থান করতেন। পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থতার কারণে নিয়মিত পড়াশোনায় ছেদ পড়লেও তার সৃজনশীল মানসিকতা থেমে থাকেনি। শৈশব থেকেই শব্দ, ছন্দ ও গানের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাকে ধীরে ধীরে গীতিকারের পথে নিয়ে আসে।
গীতিকার হিসেবে মনসাদের যাত্রার শুরু হয় বিশিষ্ট গীতিকার সুহেল খানের অনুপ্রেরণায়। সেই শুরু থেকেই তার গানে বারবার ফিরে আসে গ্রামবাংলা, মায়ের মমতা আর সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা। সহজ-সরল অথচ গভীর অনুভবের এসব গান খুব অল্প সময়েই শ্রোতাদের মাঝে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।
মনসাদের লেখা গান কণ্ঠে তুলেছেন দেশের ও দেশের বাইরের একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী। ‘নয়া দামান’ খ্যাত তোসিবা, ওপার বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী আকাশ সেন, লালনসংগীতশিল্পী শফি মণ্ডল ছাড়াও সানজিদা রিমি, রাজবংশি, স্বর্ণা, পলাশ ও রাজু মণ্ডলের কণ্ঠে তার গান নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংগীতাঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, লোকজ ভাবনা ও আধুনিক অনুভবের মেলবন্ধনই মনসাদের গানের বড় শক্তি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মনসাদ জানান, গানই তার সবচেয়ে বড় শক্তি ও অনুপ্রেরণা। ইতোমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি নামকরা সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তার লেখার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সামনে আরও নতুন গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত এই প্রবাসী গীতিকার। বাংলার গানকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তার পথচলা অব্যাহত।
বিআলো/তুরাগ



