মিডিয়ার মানুষ ছাড়া সাধারণ মানুষ আমাকে নায়ক হিসেবে চেনে না: অনিক রহমান অভি
হৃদয় খান: বাংলাদেশের তরুণ মডেল-অভিনেতা অনিক রহমান অভি ধারাবাহিকভাবে মূলধারার চলচ্চিত্রে কাজ করে যাচ্ছেন। মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও অল্প সময়েই নিজেকে চলচ্চিত্রের অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত তার অভিনীত নয়টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ে আগ্রহী এই অভিনেতা বর্তমানে নিজের ভবিষ্যৎ কাজ এবং বাংলা চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
ক্যারিয়ার, চরিত্র নির্বাচন, চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে অনিক রহমান অভি বলেন, এ পর্যন্ত তার নয়টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এই সময়ে তিনি দেশের অনেক গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, যা তার কাছে বড় সৌভাগ্যের। তার ভাষায়,
“রত্না কেয়া, সিমলা, আঁচল, শিরিন শিলা, মৌসুমী, নিপুণ, ফারহানা মিলিসহ আরও অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছি। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে একজন অভিনেতা হিসেবে সমৃদ্ধ করেছে।”
চরিত্র নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অভি বলেন, চরিত্র ছোট বা বড়—এটি তার কাছে মুখ্য নয়। প্রতিটি চরিত্রই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তবে মূলধারার চলচ্চিত্রেই কাজ করতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে এই অভিনেতা জানান, প্রথম ছবিতেই তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
“আমার ক্যারিয়ারের প্রথম ছবিতে ‘আক্তার’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। সেটি আমার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল,” বলেন তিনি।
দর্শকের ভালোবাসা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভির কণ্ঠে আলাদা আবেগ ধরা পড়ে। এতগুলো ছবি মুক্তির পরেও অনেক দর্শক এখনো তাকে তার প্রথম ছবির চরিত্রের নামেই চেনেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এতগুলো ছবি মুক্তির পরেও দর্শক এখনো আমাকে আমার প্রথম ছবির চরিত্রের নাম ‘বিশাল’ বলে ডাকে। এটা আমার কাছে অনেক আনন্দের।”
বাংলা চলচ্চিত্রের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও গল্পের জায়গাটা দুর্বল হয়ে গেছে।
“একসময় বাংলা চলচ্চিত্রে গল্পনির্ভর ছবি অনেক বেশি ছিল, এখন সেটা নেই। অথচ গল্পনির্ভর ছবির সংখ্যা আরও বাড়া দরকার,” বলেন অভি।
ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনিক রহমান অভি জানান, চলচ্চিত্রে আসার সময় তিনি সবার কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিও তার শুভকামনা রয়েছে।
“আমি যখন চলচ্চিত্রে এসেছিলাম, সবাই আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছিল। এখন যারা কাজ করছে, এই প্রজন্মকে আমি অভিবাদন জানাই। সবাই ভালো করছে, আরও ভালো করুক।”
একজন অভিনেতা হিসেবে প্রস্তুতির বিষয়ে নিজের দর্শনও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করাটাই একজন শিল্পীর প্রধান দায়িত্ব।
“চরিত্রের প্রয়োজনে একজন শিল্পীকে যেভাবে নিজেকে গুছিয়ে রাখতে হয়, আমি সেভাবেই চেষ্টা করি। প্রত্যেকটা চরিত্রে আমার সর্বোচ্চ অভিনয়শৈলী তুলে ধরতে চাই।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেতা জানান, ২০২৬ সালে তার অভিনীত দুটি ছবি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
“আশা করছি ২০২৬ সালে আমার দুটি ছবি মুক্তি পাবে। সেই ছবিগুলোতে দর্শক অন্যরকম একজন অভিকে আবিষ্কার করবে।”
তবে জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি বাস্তববাদী। সাধারণ দর্শকের কাছে তিনি এখনও খুব বেশি পরিচিত নন—এ কথা অকপটে স্বীকার করেন অভি।
“কেউ সিনেমা হলে গিয়ে পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও জিজ্ঞেস করে না—এই ছবির হিরো আপনি কিনা। যারা চলচ্চিত্রের মানুষ, মিডিয়ার মানুষ, তারাই মূলত আমাকে চেনে।” সবশেষে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানান এই অভিনেতা।
“আমি চাই না বাংলা চলচ্চিত্র ধ্বংসের পথে যাক বা থেমে যাক। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি বাংলা চলচ্চিত্রের আরেকবার ঘুরে দাঁড়ানোটা দেখতে চাই,” বলেন অনিক রহমান অভি।
বিআলো/তুরাগ



